ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও ভারতের বাণিজ্য চুক্তি ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং ভারতের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা FTA) হতে চলেছে। এই চুক্তি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হবে ২৭ জানুয়ারি। আর এই FTA চুক্তির পর ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং ভারত, দুই দলই নিজেদের বাজার একে অপরের জন্য খুলে দেবে। হবে অবাধ বাণিজ্য। আর গোটা বাণিজ্যটাই হবে খুব কম বা বিনা শুল্কতে।
এই চুক্তি নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। তিনি সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে জানান, ভারতের সঙ্গে এমন একটা বাণিজ্য চুক্তি হতে চলেছে যা আগে কখনওই হয়নি। আর এই চুক্তিতে শুধু ইউরোপের দেশগুলির নয়, বরং ভারতেরও অনেক লাভ হবে। আসুন সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
একটা বড় বাজার খুলে গেল
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের সঙ্গে ১১.৮ লক্ষ কোটির (১৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার) বাণিজ্য হয়েছে ইইউ-এর। এক্ষেত্রে রফতানি হয়েছে ৭৫.৮ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি হয়েছে ৬০.৭ বিলিয়ন ডলার। তবে নতুন চুক্তি হলে ইউরোপে ভারতের রফতানি আরও অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষত, সার্ভিস সেক্টর থেকে ম্যানুফাকচারিং সেক্টরে হবে লাভ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতদিন যেখানে ১৩৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতো, সেটা এখন বৃদ্ধি পাবে। এটা পৌঁছে যাবে ২০০ থেকে ২৫০ বিলিয়ন ডলারে। আসুন এই চুক্তির আরও কিছু লাভ সম্পর্কে জানা যাক।
১. রফতানি বাড়বে
ইউরোপীয়ান ইউনিয়নয়ের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে ভারত। যার ফলে এর অধীনস্ত সব দেশে রফতানি বাড়বে ভারতীয় পণ্যের। এতে আদতে লাভ হবে পোশাক থেকে ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গয়নার মতো শিল্পের।
২. মেক ইন্ডিয়া হবে বুস্ট
এই চুক্তির মাধ্যমে কম পয়সায় ইউরোপ থেকে কাঁচামাল আনা যাবে। যার ফলে দেশে পণ্য উৎপাদন বাড়বে। এতে আদতে ভারতেরই লাভ।
৩. নতুন চাকরি হবে
এই চুক্তির ফলে বাড়বে রফতানি এবং আমদানি। তাতে আদতে চাকরির নতুন ক্ষেত্রে তৈরি হবে। হবে কোটি কোটি চাকরি।
৪. ইউরোপের দ্বার খুলল ভারতীয় কোম্পানির জন্য
এতদিন ইউরোপে খুব কম সংখ্যক ভারতীয় সংস্থাই ব্যবসা করত। যদিও এই চুক্তির পর অনেক বেশি ভারতীয় সংস্থা ইউরোপে গিয়ে কাজ করতে পারবে।
৫. চিনের উপর ডিপেন্ডেন্স কমবে
ভারত বাণিজ্যের দিকে চিনের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। আর এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের দরজা খোলায় আদতে লাভ হল। তাতে চিনের উপর বাণিজ্য নির্ভরশীলতা কমবে।
৬. ভারতীয় সংস্থায় হবে বিনিয়োগ
ইউরোপের বিনিয়োগকারী আমেরিকায় ইনভেস্ট করতেন। তবে মার্কিন সংস্থাগুলির খুব বেশি বৃদ্ধি হয় না। তাই ইউরোপীয়রা এখন থেকে ভারতে বিনিয়োগ করবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।