
LPG গ্যাস সিলিন্ডার সঙ্কটযুদ্ধের মধ্যে রান্নার গ্যাস বা LPG সিলিন্ডারের কালোবাজারি নিয়ে এবার রাজ্যগুলিকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশে একাধিক রাজ্যে গ্যাসের কালোবাজারির যে অভিযোগ উঠছে, সেই বিষয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব সুজাতা শর্মা সাংবাদিক সম্মেলন করে সতর্ক করলেন। একই সঙ্গে জনগণকে প্যানিক বাইং বা ভয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুক না করারও পরামর্শ দিলেন তিনি।
হঠাত্ করে বুকিং বেড়ে ৭৬ লাখ হয়ে গিয়েছে
অতিরিক্ত সচিব জানান, গুজবে কেউ যেন কান না দেন। ভয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুক করার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে। এরপরেই তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ লক্ষ সিলিন্ডার বুকিং হত। হঠাত্ করে তা বেড়ে ৭৬ লাখ হয়ে গিয়েছে। তেল সংস্থাগুলির কল সেন্টারগুলি যাতে গ্রাহকদের পরিষেবা আরও ভাল দিতে পারে, তার জন্য কল সেন্টারে আসন বাড়িয়ে ৪০০ করে দেওয়া হয়েছে। টেলিফোন লাইনের সংখ্যাও বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। যাতে মানুষ কোনও অভিযোগ থাকলে দ্রুত জানাতে পারে।

রাজ্যগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে
কেন্দ্রের তরফে জানানো হল, কালোবাজারি রুখতেও কড়া অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে সম্প্রতি একটি মিটিং হয়েছে। সেই মিটিংয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগলির সিভিল সাপ্লাই ডিপার্টমেন্টের সচিবরাও ছিলেন। তাঁদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলিকে অব্যাহত সমন্বয় এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীরা তাদের রাজ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।
কলকাতাতেও কড়া ব্যবস্থা
এছাড়াও, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান, কেরলম, কর্ণাটক এবং উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের মতো রাজ্যগুলিতেও প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাক চুরি হয়ে গিয়েছে। পুলিশ সফলভাবে এটি উদ্ধার করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের হাপুরেও সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে এবং জড়িত পরিবেশকের গুদাম সিল করে দেওয়া হয়েছে।
কর্ণাটকে, খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা সিলিন্ডার জব্দ করেছেন। মধ্যপ্রদেশেও একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় যাতে গ্যাসের সঙ্কট আরও না বাড়ে, সে জন্য কালোবাজারি বন্ধে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। লালবাজারের তরফে সতর্ক করা হয়েছে, শহরের প্রতিটি ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনারদের । সেই নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতেও।