মহেঞ্জদারোর প্রতীক মহিলার শরীর কাপড়ে ঢাকা কেন?প্রায় চার হাজার বছর আগের এক সভ্যতার নির্দশন ঘিরে বিতর্ক ২০২৬ সালে! ক্লাস ৯-এর পাঠ্যবইয়ে মহেঞ্জদারো সভ্যতার অন্যতম প্রতীক 'নৃত্যরত মহিলার' ঊর্ধ্বাঙ্গে পোশাক চাপিয়ে বিতর্কের শিরোনামে NCERT। সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা মহেঞ্জদারোর অন্যতম প্রতীক হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত রয়েছে নৃত্যরত মহিলার ওই ব্রোঞ্জ মূর্তিটি।
১৯২৬ সালে খননের সময় আবিষ্কার হয় মহেঞ্জোদারোর ‘ডান্সিং গার্ল’। ওই ভাস্কর্যটির দিকে তাকালে দেখা যায়, নৃত্যরত মেয়েটির চুল খোঁপা করা রয়েছে, হাতে রয়েছে চুড়ি-বালা, ব্রেসলেট, গলায় নেকলেশ। উর্ধ্বাঙ্গ রয়েছে অনাবৃত। শরীরের নানা গঠন ফুটে উঠেছে ওই ৪ ইঞ্চির ছোট মূর্তিতে। যাকে হরপ্পা-মহেঞ্জদারোর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে মানেন ঐতিহাসিকরা।
বিতর্ক কী নিয়ে?
সম্প্রতি NCERT-র পাঠ্য়বইয়ে ধরা পড়ে মূর্তিটির অন্য ছবি। দেখা যায় মূর্তিটির ঊর্ধ্বাঙ্গ ঢেকে দেওয়া হয়েছে কালো কাপড়ে। ফলে স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে না মূর্তিটি। অনেকেই এরফলে মূর্তিটি বিকৃত করা হয়েছে বলে শোরগোল পড়ে যায়। বিতর্ক দানা বাঁধতেই অবশেষে ঢোঁক গেলে NCERT-ও।
এই মূর্তি গুরুত্বপূর্ণ কেন?
ঐতিহাসিকরা মনে করেন, ওই অনাবৃত নারীমূর্তি সিন্ধু সভ্যতায় নারীদের সমাজে অবস্থান এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যক্ত করে। ওই মূর্তির শরীরের ভঙ্গিতে যেন ধরা পড়েছে প্রাচীনকালের এক মেয়ের আত্মবিশ্বাস। পাশাপাশি তেমনই শিল্পীর শৈলী, রুচিশীল মানসিকতাও ধরা পড়েছে ওই শিল্পকর্মে।
NCERT-এর তরফে কী জানানো হল?
বিতর্ক দানা বাঁধতেই অবস্থান বদল করে NCERT। সংস্থার ডিরেক্টর দীনেশ সাকলানি সোমবারেই জানিয়ে দেন, ফের পুরনো অবিকৃত ছবিটিকেই বইতে ছাপানো হবে। India Today-কে তিনি জানান, "বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পর ‘নৃত্যরত বালিকা’র ছবিটি আসলের আকারেই বইতে ছাপানো হবে। পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল সংস্করণে এই সংশোধন এখনই কার্যকর করা হচ্ছে। অন্যদিকে সংশোধিত মুদ্রিত সংস্করণগুলিতে ছবিটির আসল রূপটিই রাখা হবে।”