মহুয়া মৈত্র ও সীমা খান্না (বাঁদিক থেকে)নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার বিরুদ্ধে এ বার FIR করতে চেয়ে অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মহুয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় সীমা খান্নার বিরুদ্ধে এফআইআর করার আবেদন জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। সীমা খান্নার বিরুদ্ধে এফআইআর করা যাবে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন SHO।
SIR প্রক্রিয়া যখন থেকে শুরু হয়েছে, তখন থেকেই সীমা খান্না চর্চায়। সম্প্রতি 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' সংবাদপত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নিজের ইচ্ছেমতো সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তারপর থেকে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিরোধীদের নিশানায় সীমা খান্না।
সীমা খান্নার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ?
কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সহ একাধিক বিরোধী দল জ্ঞানেশ কুমার এবং সীমা খান্নাকে নিশানা করছে। তাদের অভিযোগ, ERO এবং ব্লক স্তরের আধিকারিকদের অন্ধকারে রেখে সফটওয়্যারের ব্যাক-এন্ডে কারসাজি করে ভোটার তালিকায় হেরফের করা হয়েছে।
Filed a complaint to register FIR against Seema Khanna DG IT @ECISVEEP at Parliament Street PS today. SHO asked for time till 5th to see if case made out for FIR. Told him I will be back on 6th to follow up. @MamataOfficial @RahulGandhi pic.twitter.com/1JsrmvTVKL
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) September 30, 2026
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন ‘ECINet’ চালু করে। কমিশনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অ্যাপ্লিকেশন ও ডেটাবেসকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনাই ছিল এর উদ্দেশ্য। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে সীমা খান্নার নেতৃত্বাধীন আইটি বিভাগকে সফটওয়্যার ও ডেটাবেসে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছিল, এমন অভিযোগ সামনে আসার পরই শুরু হয় বিতর্ক।
কে এই সীমা খান্না?
সীমা খান্না মূলত নির্বাচনের কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান। ডিজিটাল ও টেকনোলজি পুরোটাই দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ECINet এবং ERONet। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজের জন্য ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি ECINet চালু করে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে ৪০টিরও বেশি অ্যাপ ও পোর্টালকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হয়। সীমা খান্না জানিয়েছিলেন, এই প্ল্যাটফর্ম নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসও আরও দৃঢ় করবে।
২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা
সীমা খান্না পটনায় নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে স্নাতক হন। তারপর আইআইটি দিল্লি থেকে ইনফর্মেশন সিকিউরিটিতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তাঁর ২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা। তিনি এর আগে এনআইসি-র ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।