তৃণমূলের দিল্লির পার্টি অফিস কলকাতায় তৃণমূল ভবন ফাঁকা করার জন্য ইতিমধ্যেই নোটিস দিয়েছেন ব্যবসায়ী মন্টু সাহা। এবার দিল্লিতেও 'ঘরছাড়া' হল তৃণমূল। শুক্রবার দিল্লির ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোড থেকে সরিয়ে দেওয়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি যুক্ত সমস্ত পোস্টার-হোর্ডিং। তড়িঘড়ি তৃণমূলকে দলের অফিস ফাঁকা করে পুরনো অফিসে ফিরতে হল।
আসলে দিল্লির তৃণমূল কার্যালয়টি ছিল ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাড়িতে। সংসদ ভবনের ঢিল ছোড়া দূরত্বে ওই বাড়ি। সাংসদ হিসেবে এই বাসভবনই পেয়েছেন পার্থ ভৌমিক। নেত্রীর নির্দেশে ওই বাড়ি থেকেই দিল্লির কাজকর্ম চালাত তৃণমূল।
কিন্তু সেই পার্থই এখন বিদ্রোহী। ইতিমধ্যেই স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া চিঠিতে সই করে দিয়েছেন তিনি। সেই চিঠি প্রকাশ্যেও এসেছে। ফলে নেত্রীর নির্দেশ মানার কোনও দায় নেই তাঁর। পার্থ ভৌমিক তাঁর বাড়ি থেকে দলীয় দফতর ফাঁকা করে দিতে বলেছেন। জানা গিয়েছে, তারপরই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের ব্যানার-পোস্টার।
তৃণমূল দফতর ফিরেছে ৬১ নম্বর সাউথ এভিনিউয়ের দিল্লির বাড়িতে। ওই বাড়িটি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নামে বরাদ্দ। এখনও মমতার নেতৃত্বে আস্থা রেখে দলের কথা বলছেন, সেই সাংসদদের মধ্যে একজন নাদিমুল। তাঁর বাড়ি থেকেই এবার দিল্লির কার্যকলাপ চালাবে তৃণমূল। যদিও ঘাসফুল শিবিরের দাবি, নাদিমুল হকের ওই সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই ২০১৭ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের অফিস ছিল। পরে ওই বাড়ি সংস্কারের জন্য সেটিকে অন্যত্র সরানো হয়।
ফলে পার্থ ভৌমিকের বাড়ি থেকে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নিয়ে যাওয়া হয়েছে জিনিসপত্রও।
উল্লেখ্য, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার দলনেতা হওয়ার পর থেকেই পার্থ ভৌমিকের সংসদ আবাসনই হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সরকারি বাংলো। সেটিকেই অফিস হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছিল তৃণমূল। অভিষেক নিজেও সাংসদদের নিয়ে এই বাংলোতে বৈঠক করেছেন একাধিকবার। সাংবাদিক বৈঠকও হত সেখান থেকেই।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'পার্থর নামে বাড়ি ছিল। তবে আমি হাউজিং কমিটিতে সদস্য বলে রিকয়েস্ট করে বাড়িটা ওকে করিয়ে দিয়েছিলাম। ওর নাম বাড়িটা ছিলই না। এবার ওর নামে বাড়ি ও যা খুশি করুক। ও মহান নেত্রী শতাব্দী রায় আর কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে ওখানে বসে বসে কাজ করুক।'