সোনমের কিছু হলে দায় কেন্দ্রীয় সরকারেরএখনও অনশনে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর শরীরের হাল নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা দিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে। বুধবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এই বিষয়ে চিঠি লিখেছেন তিনি। সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন, ওয়াংচুকের যদি কোনও ক্ষতি হয়, তার সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকেই নিতে হবে। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসার আবেদনও জানান।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছেন সোনম। ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলনের মূল দাবি, নিট এবং সিবিএসই পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আর অনশন করতে গিয়েই শরীরের হাল খারাপ হয়েছে সোনমের।
সোনমের ৮ কেজির বেশি ওজন কমেছে
নিজের চিঠিতে সাকেত গোখলে দাবি করেছেন, অনশন শুরুর পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের ৮ কেজিরও বেশি ওজন কমেছে। বর্তমানে সবসময় তিনি চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভাল নয়।
নিজের চিঠিতে গোখলে দাবি করেছেন, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মানসিক চাপে ১২ জন ছাত্র আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর মতে, সিস্টেম ও কেন্দ্রীয় সরকারে ব্যর্থতার কারণেই নিরীহ তরুণ প্রাণগুলি গিয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাইছেন
নিজের চিঠিতে গোখলের টার্গেটে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, আন্দোলনের প্রধান দাবি হল নিট ও সিবিএসই-এর একের পর এক অনিয়মের দায় নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তিনি আরও দাবি করেন, একটি টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী নিজেও এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছিলেন। তাই নৈতিকভাবে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। কিন্তু তিনি সেটা করছেন না। এতে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
'অন্তত কথা বলুন'
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে আরও এক বড় অভিযোগ করেছেন গোখলে। তাঁর মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত নৈতিকতার বিষয়। কিন্তু তিনি এতদিনেও সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলনের দাবিগুলি জানার চেষ্টা করেননি। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।
গোখলে বলেন, 'ওয়াংচুক একজন প্রকৃত গান্ধীবাদী। তিনি লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর স্বার্থে আন্দোলন করছেন। তাই সরকারের ন্যূনতম দায়িত্ব সোনমের সঙ্গে কথা বলা।'
এখানেই শেষ না করে এই তৃণমূল সাংসদ বলেন,
তিনি দাবি করেন, 'দুই সপ্তাহে ওয়াংচুকের ৮ কেজিরও বেশি ওজন কমেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। যদি তাঁর কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকেই দায় নিতে হবে।'
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। সিজেপি-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, মমতা তাঁকে লড়াই চালিয়ে যেতে বলেছেন।
এর আগে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ইতিমধ্যেই দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন।