শীর্ষ আদালতের অন্দরে এমন চরম বিশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার অবমাননার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিল্লির আইনি মহলে।ভরা এজলাসে বিচারপতিকে গালিগালাজ। ফাইল, কাগজপত্র ছুঁড়ে রীতিমতো তেড়ে গেলেন মামলাকারী। এমনই আজব ঘটনা ঘটল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India)। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এক মামলার শুনানি চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে আদালতে এক নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তড়িঘড়ি আদালতের নিরাপত্তা কর্মীরা ওই মারমুখী ব্যক্তিকে জাপটে ধরে এজলাসের বাইরে বের করে দেন। শীর্ষ আদালতের অন্দরে এমন চরম বিশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার অবমাননার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিল্লির আইনি মহলে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। কোনও আইনজীবী না রেখে নিজেই নিজের সওয়াল (Appearing in person) করছিলেন তিনি।
‘জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, আমি অর্ডার দিচ্ছি...!’
এদিন মামলার শুনানির শুরু থেকেই রীতিমতো রণং দেহি মোডে ছিলেন ওই ব্যক্তি। শুরু থেকেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হাবভাব দেখাচ্ছিলেন। এদেশে যে কোনও আদালতে সাধারণত বিচারপতি ও বিচারকদের বিশেষ সম্মান করা হয়। তাঁদের সম্বোধনের বিশেষ রীতিনীতিও রয়েছে। তবে তার বিন্দুমাত্রও করেননি ওই ব্যক্তি। উল্টে এজলাসে দাঁড়িয়ে সরাসরি বিচারপতিদের উদ্দেশে চেঁচাতে শুরু করেন। বলেন, 'মিস্টার জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট (বিচার বিভাগীয় কর্মচারী), আমি আপনাকে আদেশ দিচ্ছি যে লখনউয়ের এসিপি-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিন।' তাঁর কথা শুনে দৃশ্যতই হকচকিয়ে যান বেঞ্চের প্রবীণ বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন। কিছুটা বিস্মিত হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন, 'আপনি কি আমাকে আদেশ দিচ্ছেন? আপনি আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন?' এর উত্তরে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে ওই ব্যক্তি বলেন, 'আমার দিক থেকে এটাই বলার ছিল। সব কিছু রেকর্ডে রয়েছে।'
বিচারপতিকে ফাইল ছুঁড়ে গালিগালাজ!
আইনি পোর্টাল 'লাইভ ল' (Live Law)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপরই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওই মামলাকারী আচমকাই তাঁর হাতের ফাইল ও মামলার কাগজপত্র বিচারকের টেবিলের দিকে ছুঁড়ে মারেন। শুধু তাই নয়, ওই বেঞ্চে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে নিয়েও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন।
এজলাসের ভিতর সব মিলিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করে দেন ওই ব্যক্তি। এরপরই আদালতের নিরাপত্তা রক্ষীরা ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন। তাঁকে টেনেহিঁচড়ে কোর্টরুমের বাইরে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই পুরো সময়টাই চুপচাপ ছিলেন দুই বিচারপতি। মেজাজ না হারিয়ে শান্তভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় আদালতের কাজ। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে কিনা, তা এখনও জানা যায়নি।