মশাল হাতে বিক্ষোভকারী মহিলা বাহিনী নতুন করে উত্তপ্ত মণিপুর। চলতি মাসের শুরুতে বোমা বিস্ফোরণে ২ শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রতিবাদে নাগরিক সমাজের ডাকা ৫ দিনের বনধ রাজ্যের উপত্যকা অঞ্চলের জেলাগুলিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে দিয়েছে। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই বনধের নেতৃত্ব দিচ্ছে মেইরা পাইবিস (মহিলা মশাসবাহক), বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন এবং ওই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে গঠিত একটি গণমঞ্চ।
পুলিশ ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে, অসমাজিক কাজকর্মের মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এই আন্দোলনকে ব্যবহার করছে। হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে মণিপুরে। এই বনধের সূত্রপাত গত ৭ এপ্রিলের এক বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এক ৫ বছরের শিশুপুত্র এবং এক ৫ মাসের শিশুকন্যার মৃত্যু হয় ওই বিস্ফোরণের জেরে। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি এবং ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন।
প্রতিবাদীরা তাদের মূল দাবির পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন। বনধের প্রথম দিনই বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর এবং পরিবহণ পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল।
রবিবার সন্ধ্যায় উপত্যকা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম জেলায় একাধিক স্থানে রাতেও মিছিল হয়েছে। কিছু এলাকা, যেমন কাকচিং জেলায় প্রতিবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও শোনা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বলেও খবর।
মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, মাইরা পাইবিসের নেতৃত্বে হওয়া এই মিছিলে অসামাজিত কিছু ব্যক্তি অনুপ্রবেশ করে হিংসা ছড়িয়েছে। পুলিশের মতে, এই উস্কানিদাতারা পেট্রোল বোমা, লোহার প্রজেক্টাইল যুক্ত ক্যাটাপল্ট এবং পাথর ছুড়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অনেক প্রতিবাদী মদ বা অন্যান্য নেশা করেছিলেন। পাশাপাশি কিছু উস্কানিদাতা আগে থেকেই পেট্রোল বোমা, ক্যাটাপল্ট ও লোহার প্রজেক্টাইল সরবরাহ করেছে। এই পরিস্থিতিতেও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে এবং হিংসা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং বেআইনি কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি হিংসায় জড়িতেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থআ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
এই আন্দোলনের কারণে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই বনধ ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং তাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
বিষ্ণুপুরে বিস্ফোরণটি এমন একটা সময়ে ঘটেছে যখন মণিপুর ইতিমধ্যেই জাতিগত উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন হিংসায় জর্জরিত। নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলি সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। যাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায় এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
এই পরিস্থিতির ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়েছে। যান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।