Marco Rubio Exclusive: 'ভারত কেবল বন্ধু নয়, কৌশলগত সহযোগী', বললেন মার্কিন বিদেশ সচিব রুবিও

আমেরিকার বিদেশ সচিব সাফ জানিয়েছেন, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কেবল বন্ধু রাষ্ট্র নয়, বরং অন্যতম প্রধান কৌশলগত সহযোগী। নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সাপ্লাই চেন এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ ক্রমাগত বাড়ছে'। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে বলেও জানান রুবিও। তাঁর মতে,'দুই দেশই এমন কিছু বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করছে যা পরস্পরের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ'।

Advertisement
Exclusive: 'ভারত কেবল বন্ধু নয়, কৌশলগত সহযোগী', বললেন মার্কিন বিদেশ সচিব রুবিওমার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন যে, ভারত আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার (ছবি: আইটিজি)
হাইলাইটস
  • ভারত-মার্কিন সম্পর্ক থেকে ইরান সমস্যা।
  • এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার মার্কিন বিদেশ সচিবের।

চার দিনের ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। এই সফরে ‘আজতক’-কে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের মত জানিয়েছেন। আলাপচারিতায় উঠে এসেছে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক, দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি, কোয়াড, সমুদ্রের নিরাপত্তা এবং ইরান।

আমেরিকার বিদেশ সচিব সাফ জানিয়েছেন, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কেবল বন্ধু রাষ্ট্র নয়, বরং অন্যতম প্রধান কৌশলগত সহযোগী। নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সাপ্লাই চেন এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ ক্রমাগত বাড়ছে'। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে বলেও জানান রুবিও। তাঁর মতে,'দুই দেশই এমন কিছু বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করছে যা পরস্পরের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ'।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন মার্কিন সফর নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব। তিনি জানান,'আমেরিকা চায়, জি-২০ সম্মেলনের বাইরে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে একটি দ্বিপাক্ষিক সফর হোক। যা শুধুমাত্র ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু হবে। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানাতে উগ্রীব। এই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে দুই দেশের মধ্যে কথাবার্তা চলছে'।

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে রুবিও আশ্বস্ত করেছেন, এই চুক্তি এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়,'এটা কয়েক মাসের নয়, মাত্র কয়েক সপ্তাহের বিষয়। শুধুমাত্র আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত বিষয় নয়, বরং সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আধুনিক সময়ের উপযোগী করে তোলার একটি চেষ্টা। নতুন শিল্প, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিবর্তনশীল চাহিদার কথা মাথায় রেখে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি'।

ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া, এই চার দেশের জোট হল কোয়াড। রুবিও জানান, আমেরিকা চায় কোয়াড শুধুমাত্র বৈঠক এবং বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ করুক। সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, এই দুটি ক্ষেত্রকে কোয়াডের সবচেয়ে বড় কাজের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। চলতি বছরেই চার দেশের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসার চেষ্টা করছেন। তার আগে বিদেশমন্ত্রক স্তরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে যাতে বৈঠকে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

Advertisement

ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে অবশ্য বেশ কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন রুবিও। তিনি সাফ জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ করা বা তা দখল করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কোনও দেশেরই জাহাজ চলাচলে জোর করে বাধা দেওয়ার বা অর্থ আদায়ের অধিকার নেই। 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও সরাসরি সরব হয়েছেন রুবিও। তিনি বলেন,'ইরানকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে যে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। তাঁর বক্তব্য, ৬০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত ইউরেনিয়ামের কোনও শান্তিপূর্ণ দেশ ব্যবহার করতে পারে না। এর একমাত্র উদ্দেশ্য অস্ত্র তৈরি করা। তাই এই সমস্যার সমাধান অত্যন্ত জরুরি। রুবিও আরও জানান, এই মুহূর্তে সবচেয়ে অগ্রাধিকারের বিষয় হল সামুদ্রিক পথগুলি পুরোপুরি উন্মুক্ত ও নিরাপদ করা, যাতে বিশ্ব বাণিজ্য এবং তেলের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে। 

POST A COMMENT
Advertisement