ডলারের বদলে 'স্বাধীন কারেন্সি সিস্টেম' ব্যবহারের ডাক পেজেশকিয়ানের১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আমেরিকার সঙ্গে ইরানের এই সংঘাতের আবহে, গোটা বিশ্বের নজর ছিল ইরানি প্রেসিডেন্টের সফরের দিকে। পেজেশকিয়ান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম সরকারি ভাবে ভারত সফরে এলেন। ফলে সেই দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন আজ তকের গ্রুপ এডিটর (ফরেন অ্যাফেয়ার্স), গীতা মোহন। এই আলোচনাতেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা উত্তেজনাময় পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় ইরানি প্রেসিডেন্টকে।
পেজেশকিয়ানের ভারত সফর ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে কীভাবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে? চাবাহার বন্দর ইস্যুতে ইরানের অবস্থান কী? মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের কৌশল কী? এবং পশ্চিম এশিয়ার চলা উত্তেজনা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট কী ভাবছেন? এসব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।
উল্লেখ্য বিষয় হল, ভারত সফরে এসে পেজেশকিয়ান ব্রিকস বিজনেস ফোরামে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং একইসঙ্গে ব্রিকস দেশগুলোকে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান। একটি স্বাধীন কারেন্সি সিস্টেম চালুর পক্ষেও মত দেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
এরপর ভারত মণ্ডপমে PM নরেন্দ্র মোদী ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই নেতার হাত ধরে থাকা একটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। বৈঠকে চাবাহার বন্দর প্রকল্পের অগ্রগতি এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের দাবি। জানা গিয়েছে, PM মোদী পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই সংকট কেবল আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রপথ, পণ্যবাহী জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।