মথুরার নৌকাডুবিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১, ৪ জন এখনও নিখোঁজ, নৌকাচালক গ্রেফতার

দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮০০ মিটার থেকে ১ কিলোমিটার দূরে, দেবরাহা বাবা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ওই মরদেহটি পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রায় ১৪ কিলোমিটার জুড়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে, স্রোতের টানে নিখোঁজরা আরও দূরে ভেসে যেতে পারেন।

Advertisement
মথুরার নৌকাডুবিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১, ৪ জন এখনও নিখোঁজ, নৌকাচালক গ্রেফতার
হাইলাইটস
  • উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলায় যমুনা নদীতে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১।
  • এখনও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলায় যমুনা নদীতে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। এখনও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৩টে নাগাদ বৃন্দাবন ও মান্তের মাঝামাঝি একটি পন্টুন সেতুর কাছে পর্যটকবোঝাই নৌকাটি উল্টে যায়। শনিবার উদ্ধার অভিযানের সময় আরও একটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হয়েছে। সর্বশেষ যে মৃতদেহটি উদ্ধার হয়েছে, তা লুধিয়ানার বাসিন্দা মানিক ট্যান্ডনের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮০০ মিটার থেকে ১ কিলোমিটার দূরে, দেবরাহা বাবা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ওই মরদেহটি পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রায় ১৪ কিলোমিটার জুড়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে, স্রোতের টানে নিখোঁজরা আরও দূরে ভেসে যেতে পারেন।

এখন পর্যন্ত মোট ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা উদ্ধারকাজ চলছে। এই অভিযানে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পিএসি, সেনাবাহিনী এবং বেসরকারি ডুবুরিরা অংশ নিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত নৌকাটি ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার নীচে আর কোনও দেহ পাওয়া যায়নি। আহতদের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।

ঘটনার পরই নৌকার চালক পাপ্পুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করেননি এবং দ্রুতগতিতে নৌকা চালাচ্ছিলেন। এর জেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নৌকাটি নদীতে ভাসমান একটি পন্টুন কাঠামোর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে ওই এলাকার পন্টুন সেতুটি সরানো হলেও তার কিছু অংশ নদীতেই ভাসমান ছিল। প্রাথমিকভাবে অনুমান, সেই ভাসমান কাঠামোর সঙ্গেই ধাক্কা লাগে নৌকার। যদিও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রবল হাওয়ার দাপটেও নৌকাটি দুলতে শুরু করে এবং শেষে উল্টে যায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নৌকাটিতে দুই ডজনেরও বেশি পর্যটক ছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই পাঞ্জাবের বাসিন্দা এবং তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে বৃন্দাবনে এসেছিলেন।

Advertisement

ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মথুরার সাংসদ হেমা মালিনি তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে পুরো ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement