scorecardresearch
 

হিলিতে এসে পৌঁছলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধজয়ের স্মারক বিজয় জ্যোতি

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে  ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিজয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তি স্মারক  “বিজয় জ্যোতি” বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত হিলিতে এসে পৌঁছলো। এক বছর আগে ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লি থেকে এই ‘বিজয় জ্যোতি যাত্রা’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিজয় জ্যোতি স্মারক যাত্রা বিজয় জ্যোতি স্মারক যাত্রা
হাইলাইটস
  • ১৯৭ সালে পাকিস্তানকে হারানোর স্মৃতি উদযাপন
  • এক বছর ধরে ঘুরে দিল্লি ফিরবে বজয় জ্যোতি
  • শহীদদের পরিবারকেও সম্মান জানানো হলো

এক বছর আগে যাত্রা শুরু হওয়া যুদ্ধ জয়ের স্মারক বিজয় জ্যোতি বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পৌঁছলো।

বিজয় জ্যোতি

১৯৭১ সালের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গৌরবময় বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই স্মারক যাত্রা শুরু করে। গত বছর ২০২০ সালে ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লি থেকে এই ‘বিজয় জ্যোতি যাত্রা’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সামরিক মর্যাদা জ্ঞাপন

১৯৭১ এ পাক-ভারত যুদ্ধে তৎকালীন পশ্চিম দিনাজপুর জেলার আজকের দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির ভূমিকা ছিল। আজ বৃহস্পতিবার ৬৪ নম্বর মাউন্টব্যাটন কোম্পানির তরফে সেনাবাহিনীর এই বিজয় জ্যোতি মশাল এসে পৌঁছলে স্মারকটিকে সেনাবাহিনীর ৬৪ নম্বর মাউন্টব্যাটনের এর তরফে কমান্ডান্ট রাহুল মিশ্র যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করেন। হিলি সীমান্তে পাক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে মৃত ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর উদ্দেশ্যে তৈরি স্মৃতি সৌধতে সম্পূর্ন কোভিড বিধি মেনে সেনাবাহিনীর তরফে ফুলের স্তবক দিয়ে বীর শহিদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক সি মুরুগান। বিউগল বাজিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা অর্পণের পাশাপাশি দুই মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়। আজকের এই সেনাবাহিনীর এই অনুষ্ঠানের যুদ্ধের কীর্তি বিজড়িত হিলির বেশ কিছুটা কিছুটা মাটি পবিত্র মাটি হিসেবে একটি সুদৃশ্য কলসে ভরে সেনাবাহিনীর তরফে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

শহীদদের সম্মান

এছাড়া ও সেনাবাহিনীর তরফে আজকের  এই  বিজয় জ্যোতির গৌরবময় অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয় জেলার অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর লোকজনদের। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়ে শহীদ বালুরঘাটের বাসিন্দা মহেন্দ্রনাথ দাসের পত্নী মল্লিকা দাস ও শ্রীলঙ্কায় শান্তি রক্ষা বজায় রাখতে গিয়ে জেলার গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা শহীদ দীপককুমার মহন্তর পত্নী অঞ্জলি মহন্তকে সম্মান জানানো হয়েছে। 

কেন বিজয় জ্যোতি

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশের পশ্চিম সীমান্তে খোলা ফ্রন্টে ভারতীয় সেনা অভিযান চালিয়ে পাক সেনাবাহিনীর আমেরিকা থেকে প্রাপ্ত আর্মি ট্যাঙ্কগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। এ কারণেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই আগ্রাসী কোর ১৬ ডিসেম্বর ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে। সেই গৌরবময় যুদ্ধের বিজয় দিবসের ৫০ বছর পূর্তিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই  বিজয় জ্যোতি দীপশিখা প্রজ্জলিত মশাল সারা ভারতের মানুষের মধ্যে সেনাবাহিনীর গৌরবগাথা তুলে ধরবার জন্য প্রদক্ষিণ করছে।

কোথায় কোথায় ঘুরবে স্মারক মশাল

এই বিজয় জ্যোতির যাত্রায় চারটি ‘বিজয় মশাল’ এক বছরের মধ্যে পুরো দেশের সেনাছাউনি অঞ্চলগুলি পরিদর্শন করবে। যাত্রা দিল্লি থেকে শুরু হয়ে মথুরা, ভরতপুর, আলওয়ার, হিসার, জয়পুর, কোটা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিসনের আওতায় থাকা শহরগুলি এক বছর ধরে ঘুরে ফের দিল্লি ফিরে যাবে। সঙ্গে নিয়ে যাবে সব এলাকার পবিত্র মাটি।