অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়।'SIR এর পর মিঞাদের নাম বাদ যাবে'। ভোটের আগে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক। হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছে বিরোধী শিবিরে। এর মধ্যে মুসলিম সমাজের মধ্যেই বিভাজনের প্রচেষ্টা আছে বলে অভিযোগ তুলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। সম্প্রতি এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাভাষী মুসলিমদের বিষয়ে এই মন্তব্য করেন। অসমে বাঙালি মুসলিমদের স্থানীয়ভাবে মিঞা বলা হয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে লক্ষাধিক 'মিঞা' ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে; এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি SIR এর পর রিকশার ভাড়াও কমে যাবে বলে ব্যাখ্যা দেন। তাঁর সেই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী শুধু একটি সম্প্রদায়কে নয়, কার্যত গরিব মানুষকেই নিশানা করছেন।
AIUDF প্রধান বদরুদ্দিন আজমল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ধরে রাখার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, মিঞা মুসলিমরা ভীত নন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে এর মূল্য দিতে হবে। কংগ্রেসের জেহেরুল ইসলাম বলেন, গরিব মানুষের প্রতি অন্যায়কেই নরম্যালাইজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এই বিতর্কের মধ্যেই ভিন্ন সুর কংগ্রেস বিধায়ক শেরম্যান আলি আহমেদের। তিনি 'মিঞা' সমাজকে শিক্ষা ও পেশায় উন্নতিতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মন্তব্য, আগামী ১৫ বছরে প্রতিটি গ্রামে বিজ্ঞানচর্চার ব্যবস্থা করতে হবে। এটা করতে পারলে মিঞারা শুধু অসম নয়, গোটা বিশ্বে সম্মানের আসন পাবেন।
অন্যদিকে AIUDF বিধায়ক রফিকুল ইসলাম মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলেন। ভোটার তালিকার সংশোধনের (SIR) ফলে মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। সুপ্রিম কোর্টের এক পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অসমে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন রাজ্যের ভূ-কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিনের সমস্যা বলে ফের তুলে ধরেন। 'অসমের ৩৫ জেলার মধ্যে ১১টি জেলায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে'; উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।