modi xi jinping : ভাষণ থামিয়ে জিনপিংকে মোদীর জিজ্ঞাসা, 'সব ঠিক আছে তো?', হঠাৎ কী হল চিনের প্রেসিডেন্টের?

ব্রিকস সম্মেলনের শুরু থেকেই মোদী এবং জিনপিংয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি সৌহার্দ্যের মুহূর্ত দেখা গিয়েছে। ভারত সফরে আসা চিনা প্রেসিডেন্টকে ভারত মণ্ডপমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement
ভাষণ থামিয়ে জিনপিংকে মোদীর জিজ্ঞাসা, 'সব ঠিক আছে তো?', হঠাৎ কী হল চিনের প্রেসিডেন্টের?  মোদী ও শি জিনপিং
হাইলাইটস
  • ব্রিকস সম্মেলনে নিজের বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎই জিনপিংয়ের দিকে তাকান মোদী
  • চিনা প্রেসিডেন্টের মুখভঙ্গি দেখে কিছুটা উদ্বিগ্ন বলেই মনে হয় তাঁকে

ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হঠাৎই তাঁর নজরে পড়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিকে। তাঁকে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখেই নিজের বক্তব্য থামিয়ে দেন মোদী। চিনা প্রেসিডেন্টের পাশে থাকা অনুবাদককে প্রশ্ন করেন, 'ইজ ইট ওকে?' অর্থাৎ, 'সব ঠিক আছে তো?' কয়েক মুহূর্ত পর ফের একই প্রশ্ন করেন তিনি। জিনপিংয়ের সম্মতিসূচক ইঙ্গিত পাওয়ার পরই ফের বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঘটনার সেই মুহূর্ত ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। দূরদর্শনের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যের প্রায় ৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ড থেকে ৫ মিনিট ১১ সেকেন্ডের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ঠিক কী কারণে জিনপিং অস্বস্তি বোধ করছিলেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। মাইক্রোফোন বা বক্তব্যের অনুবাদ সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা মেলেনি।

জিনপিংয়ের অস্বস্তি, ভাষণ থামালেন মোদী

ব্রিকস সম্মেলনে নিজের বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎই জিনপিংয়ের দিকে তাকান মোদী। চিনা প্রেসিডেন্টের মুখভঙ্গি দেখে কিছুটা উদ্বিগ্ন বলেই মনে হয় তাঁকে। সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্য থামিয়ে অনুবাদকের মাধ্যমে জিনপিংয়ের খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী।

কয়েক সেকেন্ড পর জিনপিং মাথা নেড়ে ঠিক থাকার ইঙ্গিত দেন। এরপরই ফের বক্তব্য শুরু করেন মোদী। ছোট্ট এই ঘটনা হলেও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের একটি ছবি সামনে এসেছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

বিশেষ করে ভারত-চিন সম্পর্ক যখন ফের স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, সেই সময়ে মঞ্চে মোদীর এই আচরণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

মোদী-জিনপিংয়ের উষ্ণতায় নজর

ব্রিকস সম্মেলনের শুরু থেকেই মোদী এবং জিনপিংয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি সৌহার্দ্যের মুহূর্ত দেখা গিয়েছে। ভারত সফরে আসা চিনা প্রেসিডেন্টকে ভারত মণ্ডপমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

দুই রাষ্ট্রনেতা হাত মেলান। তাঁদের পিছনে দেখা যায় তামিলনাড়ুর রামনাথস্বামী মন্দিরের বিখ্যাত ১,২১২ স্তম্ভের করিডরের ছবি। সেই স্থাপত্যের গুরুত্ব এবং বিশেষত্ব জিনপিংকে বোঝাতেও দেখা যায় মোদীকে।

Advertisement

এই জায়গাটি বেছে নেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ অবশ্য জানা যায়নি। তবে ২০১৯ সালের অক্টোবরে তামিলনাড়ুর মামল্লপুরমে মোদী ও জিনপিংয়ের বৈঠকের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে এই মুহূর্ত। সেই সময় দুই নেতার মধ্যে যথেষ্ট উষ্ণ সম্পর্কের ছবি সামনে এসেছিল।

এরপর পূর্ব লাদাখের সীমান্ত পরিস্থিতি এবং গালওয়ান সংঘর্ষের জেরে ভারত-চিন সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়।

ফের স্বাভাবিক হচ্ছে ভারত-চিন সম্পর্ক?

তবে ২০২৪ সাল থেকে ভারত ও চিনের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু হয়েছে। চিনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কিছুটা নিয়ম শিথিল করেছে নয়াদিল্লি।

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও জিনপিংয়ের দীর্ঘক্ষণ হাত মেলানোর ছবিও সামনে এসেছে। হাসি, চোখে চোখ রাখা এবং দীর্ঘ করমর্দনে দুই নেতার মধ্যে উষ্ণতার বার্তা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সঙ্গে নিয়ে মোদী ও জিনপিংয়ের কথোপকথনের ছবিও নজর কেড়েছে। তিন রাষ্ট্রনেতার এই হাডল গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনের সময় সামনে আসা একটি ভাইরাল ছবির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে।

আর একটি ছবিতে পুতিন ও জিনপিংয়ের হাত ধরে রয়েছেন মোদী। বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই ছবিকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের পাশে থেকেও পহেলগাঁও হামলার নিন্দা চিনের

ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে চিনের স্বাক্ষর। পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা কূটনৈতিক মহলে সর্বজনবিদিত। তার মধ্যেই ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার নিন্দা করা হয়েছে।

পহেলগাঁও হামলার পর ভারত বারবার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে কঠোর অবস্থানের দাবি জানিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস ঘোষণাপত্রে হামলার নিন্দা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে সীমান্ত সমস্যা এখনও বড় কাঁটা

মোদী-জিনপিংয়ের মধ্যে সৌহার্দ্যের একাধিক ছবি সামনে এলেও ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখনও সীমান্ত বিরোধ। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও সেই বিষয়টি উঠে এসেছে।

দুই রাষ্ট্রনেতাই দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারত-চিন সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য যেন কোনওভাবেই বিরোধে পরিণত না হয়।

তবে সীমান্ত প্রশ্নে ভারত ও চিনের প্রকাশিত বিবৃতিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

ভারতের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য 'অত্যাবশ্যক ভিত্তি'। অর্থাৎ, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখাকেই সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখেছে নয়াদিল্লি।

অন্যদিকে চিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ, দুই ক্ষেত্রেই সমান্তরাল ও পারস্পরিকভাবে সহায়ক অগ্রগতির কথা বলেছে বেজিং।

সৌহার্দ্য বাড়লেও সীমান্তে সমাধান এখনও অধরা

সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে মোদী ও জিনপিংয়ের একাধিক মুহূর্ত ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ কিছুটা গলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। করমর্দন থেকে শুরু করে কথোপকথন, একসঙ্গে ছবি এবং জিনপিং অস্বস্তিতে রয়েছেন বুঝে মোদীর বক্তব্য থামিয়ে খোঁজ নেওয়া- সবকিছুতেই দুই নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের ছবি স্পষ্ট।

তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উষ্ণতার পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেখানে পূর্ব লাদাখ-সহ সীমান্ত বিরোধ এখনও ভারত ও চিনের সম্পর্কের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement