
মোনালিসা ও ফরমানের বিয়েপ্রয়াগরাজে কুম্ভমেলায় ভাইরাল হয়েছিলেন। শ্যামলা রং, খোলা চুল, অতলস্পর্শী চোখ দুটির চাহনি। নামই হয়ে যায় 'কুম্ভমেলা গার্ল'। সেই মোনালিসা ভোঁসলে বিয়ে করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের পার্টনার ফরমান খানকে। কেরলে পুলিশি সুরক্ষা দিয়ে বিয়ে হল মোনালিসা। পুলিশের ব্যবস্থা করে দিয়েছে কেরলের বাম সরকার। কারণ, মুসলিম পাত্রকে বিয়ে করার বিষয়ে সায় ছিল না মোনালিসার পরিবারের।
পুলিশি নিরাপত্তায় হল বিয়ে
তিরুঅনন্তপুরমে নাইনার মন্দিরে বিয়ে সারলেন মোনালিসা ও ফরমান। মোনালিসা পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ভিনধর্মী ফরমানের সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নিচ্ছে না পরিবার। তাঁর বাবা তাঁকে জোর করে ফেরাতে চাইছেন। বিয়ের জন্য পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন দুজনেই। পুলিশ জানিয়েছে, মোনালিসা ও ফারহান দুজনেই থানায় জানান, তাঁরা বিয়ে করে সংসার করতে চান। কিন্তু পরিবার বাধা দিচ্ছে। দুজনেই যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক, তাই পুলিশ জানায়, কোনও অসুবিধা নেই।

কেরলের বাম সরকার পুলিশি সুরক্ষায় দুজনের বিয়ের ব্যবস্থা করে। তাঁদের বিয়েতে একাধিক রাজনৈতিক নেতাও উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ভি শিবাকুট্টি, এমভি গোবিন্দন ও এএ রহিমের মতো কেরলের বাম নেতারা। রহিমের কথায়, 'কেরলের সমাজের সম্প্রীতি ও দেশের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতিফলন এই বিয়ে। আমাদের সংবিধান ভিনধর্মে বিবাহ অনুমোদন দিয়েছে, আমরা নবদম্পতির নতুন জীবন শুরুকে উদযাপন করতে এখানে এসেছি।'
মাত্র ৬ মাসের সম্পর্কের পূর্ণতা
বিয়ের পর সংবাদমাধ্যমকে মোনালিসা জানান, তিনি খুবই খুশি। কেন কেরলকে বিয়ের জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বলেন, রাজ্যটি তাঁদের খুব পছন্দের বলেই কেরলেই বিয়ের আয়োজন করা হয়। মোনালিসার স্বামী ফারমান খানও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আমাদের প্রেমের সম্পর্ক মাত্র ছয় মাসের, কিন্তু মনে হয় যেন ষাট বছরের। আমিও একজন অভিনেতা।'
ভাইরাল ভিডিও থেকে জাতীয় পরিচিতি
মোনালিসা প্রথম আলোচনায় আসেন উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে আয়োজিত কুম্ভ মেলায়। সেখানে তাঁকে রুদ্রাক্ষের মালা বিক্রি করতে দেখা যায়। এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর একটি ভিডিও করেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিওর পরই তিনি ইন্টারনেটে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ইন্দোরের বাসিন্দা মোনালিসা পরে একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য কেরলে যান। সেই সময়েই তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিবাদ সামনে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছবির কাজের সূত্রে মোনালিসা ও ফারমান খান তিরুবনন্তপুরমের কাছে পুভার এলাকায় থাকছিলেন। পরে বিষয়টি থানায়ও পৌঁছয়। পরিবারের প্রাথমিক আপত্তি ও সম্পর্ককে ঘিরে নানা টানাপোড়েন থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেরলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন মোনালিসা ও ফারমান।