তামিলনাড়ু, কেরলম এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুত বেড়েছে। Monsoon 2026 Update: ভারতে কার্যত বর্ষার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, নির্ধারিত সময়েই কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ঢুকতে পারে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু, কেরলম এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুত বেড়েছে। শুধু তাই নয়, দূরের দেশ অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়াও এবার ভারতে ভাল বর্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আবহাওয়া দফতর (IMD) সূত্রে খবর, আগামী সাত দিনে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরলম এবং মাহেতে বৃষ্টি আরও বাড়বে। মে মাস জুড়েই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক অগ্রগতির লক্ষণ।
এ বছর মে মাসে দেশের বহু অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম গরম পড়েছে। উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং পূর্ব ভারতের একাধিক জায়গায় একদিকে যেমন গরম বাড়ছে, তেমনই হঠাৎ বজ্রবিদ্যুৎ, শিলাবৃষ্টি এবং ঝড়ের ঘটনাও ঘটছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের সময় দেখা যায়।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুনের আশপাশেই কেরল উপকূলে বর্ষা পৌঁছে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়েই ভারতে বর্ষার প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলছে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে। সম্প্রতি Bureau of Meteorology ঘোষণা করেছে যে, ২০২৫-২৬ মরসুমে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার বর্ষাকাল আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি হয়তো শুধুই অন্য দেশের আবহাওয়ার খবর। কিন্তু আবহাওয়াবিদদের কাছে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় বর্ষা শেষ হওয়া মানেই নিরক্ষরেখার কাছে থাকা বিশাল বৃষ্টি-বহনকারী মেঘমালার বলয়টি উত্তর দিকে সরে যাওয়ার পথ আরও পরিষ্কার হয়ে যাওয়া। এই বলয়ই ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে এগিয়ে আসে এবং ভারতের মৌসুমি বায়ুকে সক্রিয় করে।
পৃথিবীর নিরক্ষরেখার আশপাশে একটি অদৃশ্য বৃষ্টি ও মেঘের বলয় রয়েছে। সূর্যের অবস্থান বদলের সঙ্গে সঙ্গে এই বলয়ও উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সরে যায়। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম শুরু হলে বলয়টি উত্তর দিকে এগোয়। আর সেই সঙ্গেই সমুদ্র থেকে আর্দ্রতাভরা বাতাস দক্ষিণ এশিয়ার দিকে আসতে শুরু করে।
এখন সেই বলয় ইতিমধ্যেই নিরক্ষরেখা পেরিয়ে মালদ্বীপের দিক থেকে শ্রীলঙ্কা এবং আন্দামান-নিকোবরের দিকে এগোচ্ছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ভারতের বর্ষার প্রথম প্রবেশদ্বার হিসাবেই ধরা হয়। সেখান থেকে ধাপে ধাপে বর্ষা কেরল উপকূলে পৌঁছয়।
প্রতি বছর মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে বর্ষা সক্রিয় থাকে। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে। আবার সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পরিস্থিতি উল্টে যায়। তখন বৃষ্টির বলয় দক্ষিণ দিকে সরে যেতে শুরু করে এবং ভারতের বর্ষা বিদায় নেয়। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় বর্ষার মরসুম শুরু হয়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এ বার সব সংকেতই বেশ ইতিবাচক। ফলে দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রতীক্ষিত বর্ষা সময়মতোই আসতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।