বর্ষা চলে এলবাংলায় প্রচণ্ড গরম। আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি একবারে চরমে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই জানতে চাইছেন বর্ষা ঠিক কবে আসবে? আর এই বিষয় সম্পর্কে ভাল খবর দিয়েছে IMD। তাদের পক্ষ থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার জন্য একাধিক হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়া একটি শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা (ওয়েদার সিস্টেম) ওই অঞ্চলে অস্থির আবহাওয়া তৈরি করছে বলে জানান হয়েছে।
কী জানাচ্ছে IMD?
উত্তর ভারতের উপরের অংশ জুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। সর্বশেষ INSAT-3DS থার্মাল ইনফ্রারেড স্যাটেলাইট চিত্রে এই ঝঞ্ঝা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
স্যাটেলাইট ছবিতে জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড জুড়ে বিশাল ঘূর্ণায়মান মেঘ (স্পাইরাল শেপড ক্লাউড) লক্ষ্য করা গিয়েছে।
ছবিতে পশ্চিম হিমালয়ের উপর ঘন ও ঠান্ডা মেঘের স্তর ঘুরপাক খেতে দেখা যাচ্ছে। এটি সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার একটি পরিচিত লক্ষণ। এটি উত্তর ভারতের গরম প্রাক-বর্ষার বাতাসের সঙ্গে মিশে আবহাওয়াকে আরও অস্থির করে তুলছে।
জম্মু-কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশের উপরে উজ্জ্বল সাদা মেঘের ব্যান্ড দেখা যাচ্ছে। এটি বিশাল বজ্রগর্ভ মেঘের ইঙ্গিত। এই মেঘগুলি প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং স্থানীয় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করে।
ও দিকে আবার দক্ষিণ ভারতেও অপর একটি আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আরব সাগর এবং দক্ষিণ উপদ্বীপের উপর কেরল ও লক্ষদ্বীপের কাছে দ্রুত গভীর কনভেক্টিভ মেঘপুঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এটি মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মেঘের বিন্যাস থেকে বোঝা যাচ্ছে, নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর থেকে কেরল উপকূলে দ্রুত প্রবেশ করছে আর্দ্রতা। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের অন্যতম স্পষ্ট লক্ষণ।
IMD ইতিমধ্যেই কেরলে বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, আগামী ২৬ মে নাগাদ মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করতে পারে। স্বাভাবিক ১ জুনের আগেই এটা রাজ্যে প্রবেশ পড়বে বলে খবর।
যদি নির্ধারিত সময়ে মৌসুমি বায়ু আসে, তবে তা সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে অন্যতম আগাম বর্ষা প্রবেশ হিসেবে ধরা হবে। আর বর্তমান স্যাটেলাইট চিত্রও এই পূর্বাভাসকে জোরালোভাবে সমর্থন করছে।
কেরলের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঘন মেঘের ব্যান্ড দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের উপর শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা সাধারণত মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘোষণা করার আগে দীর্ঘস্থায়ী ঘন মেঘ, শক্তিশালী পশ্চিমী হাওয়া এবং আউটগোয়িং লং-ওয়েভ রেডিয়েশন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেন। বর্তমানে এই সমস্ত লক্ষণই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। তাতেই আশা করা বচ্ছে, দ্রুত প্রবেশ করবে বর্ষা।
IMD আরও সতর্ক করেছে যে, ২৮ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কেরলের বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মৌসুমি বায়ুর স্রোত আরও শক্তিশালী হবে।
মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের সময় এমন প্রবল বৃষ্টিপাত খুবই সাধারণ ঘটনা। কারণ, তখন বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা হঠাৎ স্থলভাগে প্রবেশ করে।
অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ এখনও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে। অত্যন্ত গরম স্থলভাগের বাতাস এবং প্রবেশকারী আর্দ্র আবহাওয়া ব্যবস্থার সংঘর্ষ উত্তর ভারতে প্রবল বজ্রঝড় সৃষ্টি করছে। স্যাটেলাইট ছবিতে এই বায়ুমণ্ডলীয় সংঘর্ষ প্রায় সরাসরি চোখে পড়ছে। মধ্য ভারতের উপর জ্বলন্ত শুষ্ক গরম বাতাস প্রভাব বিস্তার করছে, আর একই সঙ্গে হিমালয় এবং আরব সাগরের উপর বিশাল মেঘস্তর ঘুরপাক খাচ্ছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত এখন চরম গ্রীষ্ম থেকে বর্ষার দিকে যেতে চলেছে। আর এটা সত্যিই বড় খবর।