India Monsoon: স্যাটেলাইট চিত্রে নেই মেঘের দেখা, ৬৪ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি, কবে থেকে ছন্দে বর্ষা?

ভারতে আপাতত বর্ষার ঘাটতি। ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, কবে স্বাভাবিক হবে বর্ষা? সেই উত্তর জানতে পড়ুন।

Advertisement
স্যাটেলাইট চিত্রে নেই মেঘের দেখা, ৬৪ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি, কবে থেকে ছন্দে বর্ষা?বর্ষার মতিগতি কী?
হাইলাইটস
  • ভারতে আপাতত বর্ষার ঘাটতি
  • ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি রয়েছে
  • এখন প্রশ্ন হল, কবে স্বাভাবিক হবে বর্ষা?

খাতায় কলমে ভারতে বর্ষা। কিন্তু আচমকাই খেই হারিয়েছে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এটি দুর্বল হয়েছে। এই সেই চিত্র ধরা পড়েছে স্যাটেলাইটে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিস্তীর্ণ অংশে মেঘের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছে। বিশেষত, দক্ষিণ ও মধ্য ভারতে বর্ষা এগিয়ে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বৃষ্টিপাত বেশ কিছুটা কমেছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)-এর লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকভাবে ৫৩.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু এই সময়ে বৃষ্টির বড়সড় ঘাটতি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৯.২ মিলিমিটার। অর্থাৎ সারাদেশে বৃষ্টির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৪ শতাংশ।

আর বৃষ্টিপাতের অদ্ভুত খেলা মানচিত্রেও দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মধ্য, দক্ষিণ এবং পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় হলুদ ও লাল রঙে চিহ্নিত হয়েছে। এটি স্বাভাবিকের তুলনায় কম থেকে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১৫ জুন INSAT-3DS স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ছবিতেও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। সক্রিয় বর্ষার সময় সাধারণত বিস্তৃত মেঘ দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে তার বদলে ভারতের বড় অংশই প্রায় মেঘ নেই।

এখন উল্লেখযোগ্য মেঘের ঘনত্ব দেখা যাচ্ছে মূলত হিমালয় অঞ্চলে। উত্তর-পূর্ব ভারত এবং গাঙ্গেয় সমভূমির উত্তরের এলাকাতেও মেঘ রয়েছে। অন্যদিকে আরব সাগর থেকে আসা মনসুন শাখা দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

২০২৬ সালে কেন দুর্বল হয়ে পড়েছে বর্ষা?

এই সময় কর্নাটক, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং মধ্য ভারতের কিছু অংশে বর্ষা এগচ্ছে। কিন্তু প্রত্যাশিত বৃষ্টি হচ্ছে না। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সমস্যার কারণ সমুদ্রে আর্দ্রতার ঘাটতি নয়। বরং ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েক কিলোমিটার ওপরে বায়ুমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো ওয়েস্টারলি জেট স্ট্রিম বা পশ্চিমা জেট বায়ুপ্রবাহ। এটি বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে অত্যন্ত দ্রুতগতির বায়ুপ্রবাহ। এই বায়ুপ্রবাহ এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষিণে সরে এসেছে।

এর ফলে ইস্টারলি জেট বা পূর্বা জেট বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সাধারণত এই ইস্টারলি জেটই ভারতের ওপর বায়ু ঊর্ধ্বমুখী হতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বজ্রগর্ভ মেঘ ও বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

Advertisement

কিন্তু এ বছর শক্তিশালী পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ সেই প্রক্রিয়াকে বাধা দিচ্ছে। ফলে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্প থাকা সত্ত্বেও মেঘ তৈরি হচ্ছে না। বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে।

ফলে মানচিত্রে বর্ষা এগোলেও বাস্তবে দেশের বহু এলাকায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ ‘মনসুন পজ’ বলে বর্ণনা করছেন।

কবে ফিরবে স্বাভাবিক বর্ষা?
আবহাওয়ার পূর্বাভাস মডেলগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে জেট স্ট্রিমের প্রভাব কিছুটা কমতে পারে। তখন বর্ষার স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ আবার সংগঠিত হতে পারে। যার ফলে বাড়তে পারে বৃষ্টির গতিবিধি। ততদিন পর্যন্ত দেশের বহু এলাকাকে অপেক্ষা করতেই হবে। 


 

 

POST A COMMENT
Advertisement