বর্ষার বিদায়অবশেষে এ বছরের মতো আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় নিল বর্ষা। সাম্প্রতিক অতীতে এটা ছিল অন্যতম দুর্বল বর্ষাকাল।
২০২৬ সালের বর্ষাকাল শেষ হল ১৩ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি নিয়েই। ২০০১ সালের পর থেকে এটাই চতুর্থ সবচেয়ে কম বৃষ্টির মরশুম। এমনটাই জানাচ্ছেন IMD।
জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে ৮৭ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে সব রাজ্যে সমপরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়নি। ২৮২ জেলায় ৩৮ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে দেশে। এই জেলাগুলিতেই বৃষ্টির মারাত্মক ঘাটতি রয়ে গিয়েছে।
তবে এতটা দুর্বল বর্ষার অনুমান করেনি মৌসম ভবনও। IMD জানিয়েছিল, বৃষ্টির ঘাটতি দেখা যাবে তবে এতটাই নয়। এল নিনোই দুর্বল বর্ষার নেপথ্যে আসল কারণ।
এ বছর বর্ষার বৃষ্টি কখনও বেড়েছে, কখনও একদম থেমে গিয়েছে। সপ্তাহ থেকে সপ্তাহ আচমকাই পরিবর্তন হয়েছে বৃষ্টির প্যাটার্নে। ৮ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে ৪৫.৪ শতাংশ বৃষ্টি বেশি হয়েছিল। কিন্তু ঠিক তার পরের সপ্তাহেই ৫১.১ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি ছিল।
জুলাইয়ের শেষে এবং অগাস্টের শুরুতে বর্ষাকাল কিছুটা ট্র্যাকে ফিরেছিল। তবে অগাস্টের বাকি সময়টা এবং সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩৬.৩ শতাংশ ঘাটতি ছিল বর্ষায়।
আবার বর্ষাকালের অন্তিম সপ্তাহে স্বাভাবিকের থেকে ৪৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত দেখেছে দেশ। এই খামখেয়ালিপনাই বুঝিয়েছে বর্ষা এ বছর ঠিক কেমন চরিত্র নিয়ে এসেছিল।
গত ১৩ এপ্রিল জারি করা পূর্বাভাসে IMD জানিয়েছিল, ৯২ শতাংশ গড় বৃষ্টিপাত হবে দেশে। বলা হয়েছিল, স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টিপাতই হবে এ বছর।
মে মাসের শেষে IMD ফের জানায় ৯০ শতাংশের নীচে বৃষ্টিপাত হবে চলতি মপরশুমে। এর কারণ হিসেবে দেখানো হয় শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনোকে। তবে মরশুম শেষ হল ৮৭ শতাংশ বৃষ্টিপাতে। যা IMD-র পূর্বাভাসের থেকেও ৩ শতাংশ কম। যদিও এই মরশুমের বৃষ্টিপাত গোটা দেশজুড়ে সমপরিমাণ ছিল না।