আবহাওয়ার খবরক্যালেন্ডার বলছে, পুজো আসতে আর এক মাসও বাকি নেই। অথচ আকাশ দেখে মনে হচ্ছে ঘোর বর্ষা। রাতের দিকে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাবও গায়েব। শরতের ঊজ্জ্বল আকাশ কবে ফিরবে? আপাতত ২ সপ্তাহ তেমন সম্ভাবনা নেই। এমনটাই মত আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার। এর জন্য দায়ী জোড়া দুর্যোগ। একটা নতুন নিম্নচাপ আর একটা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস,উত্তর-পশ্চিম ভারতের কয়েকটি এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বিদায় নিতে শুরু করেছে। পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ দিয়ে মৌসুমী বায়ু বিদায় নিয়েছে। তবে নতুন করে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে মৌসুমী বায়ুর বিদায়ে বাধা আসতে পারে। স্কাইমেট ওয়েদারের মতে, ২ অক্টোবরের কাছাকাছি ফের মৌসুমী বায়ুর বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। মধ্য এবং পূর্ব ভারত থেকে মৌসুমী বায়ু ১০ অক্টোবরের আশপাশে বিদায় নিতে পারে। ফলে পুজোর আগেই মৌসুমী বায়ুর বিদায়ের সম্ভাবনা বলে দিল ভারতের মৌসম ভবনও।
শরৎ কবে আসবে?
আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানালেন, শরতের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গে রাতের তাপমাত্রা কমে শুষ্ক আবহাওয়া আপাতত কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। বঙ্গোপসাগর থেকে ঢোকা জলীয় বাষ্প এবং পরপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে অক্টোবরের প্রথমার্ধেও দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় থাকবে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ। উত্তরবঙ্গে মৌসুমী বায়ুর বিদায়ের তারিখ ৬ থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে। আর দক্ষিণবঙ্গে সেটা ৯ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত।
জোড়া দুর্যোগ
থাইল্যান্ডের উপর একটি নতুন নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। সেটি ধীরে ধীরে উত্তর আন্দামান সাগরে ঢুকে মায়ানমারের আরাকান উপকূল বরাবর উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। পরবর্তী সময়ে এই নিম্নচাপ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির দিকে এগিয়ে বাংলাদেশ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি শক্তির এই নিম্নচাপ ব্যবস্থা বাংলায় উত্তর-পশ্চিম হাওয়ার পথে বাধা তৈরি করবে। উত্তুরে হাওয়া দক্ষিণবঙ্গের একেবারে পশ্চিম প্রান্তে ঢোকার পথে বাধা পেতে পারে। তবে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের কিছু অংশ এবং পশ্চিম বর্ধমানের একাংশে নতুন সপ্তাহের শুরু থেকে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
নতুন সপ্তাহের শুরুতেই উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এগিয়ে আসতে পারে। এর ফলে উত্তুরে-পশ্চিমা হাওয়ার প্রবাহ আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকতে পারে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফল, অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম। এর সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা থেকে স্বল্পস্থায়ী মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা।