
এশিয়ার ধনীতম পুরসভা বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (বিএমসি) মেয়র পদে বসতে চলেছেন বিজেপির ঋতু তাওড়ে। টানা ২৫ বছর পর এই প্রথম মুম্বই পুরসভার মেয়র পদ শিবসেনার হাতছাড়া হল। শনিবার বিজেপি নেতা অমিত সৎম আনুষ্ঠানিকভাবে রিতু তাওড়ের নাম ঘোষণা করেন।
ঘাটকোপার এলাকার কাউন্সিলার ঋতু তাওড়ে এর আগেও বিএমসি-র শিক্ষা কমিটির চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেছেন। পুরসভায় তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণেই বিজেপির অন্দরমহলে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
ডেপুটি মেয়র হচ্ছেন শিবসেনার সঞ্জয়শঙ্কর ঘাড়ি। তিনি ১৫ জানুয়ারির পুরভোটে ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হন। ডেপুটি মেয়র পদের মেয়াদ হবে ১৫ মাস। শিবসেনা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই মেয়াদ ভাগ করে চার জন কর্পোরেটরকে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব দেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন সঞ্জয় ঘাড়ি। সেই বিদ্রোহের ফলেই মহা বিকাশ আঘাড়ি সরকারের পতন ঘটে।
২২৭ সদস্যের বিএমসি-তে বিজেপি পেয়েছে ৮৯টি আসন, শিবসেনা পেয়েছে ২৯টি। শাসক জোটের মোট আসনসংখ্যা ১১৮, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১১৪-এর চেয়ে বেশি। ফলে মেয়র পদ দখলে বিজেপির আর কোনও বাধা রইল না।
উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি), যারা ১৯৯৭ সাল থেকে টানা ২৫ বছর মুম্বই পুরসভা শাসন করেছে, এবারের নির্বাচনে পেয়েছে ৬৫টি আসন। তাদের শরিক মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা পেয়েছে ৬টি এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি (এসপি) পেয়েছে ১টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ২৪টি, এআইএমআইএম ৮টি, অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর এনসিপি ৩টি এবং সমাজবাদী পার্টি ২টি আসন।
প্রায় ৯ বছর পর এই পুরভোট অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের মার্চ থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় রাজ্য সরকারের নিযুক্ত প্রশাসকের হাতেই ছিল পুরসভার দায়িত্ব। সেই সময় কার্যত পুরপ্রধানের ভূমিকা পালন করেছেন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার।
উল্লেখযোগ্য, বৃহন্মুম্বই পুরসভা দেশেরই নয়, এশিয়ারও সবচেয়ে ধনী পুরসংস্থা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই পুরসভার বাজেট ধরা হয়েছে ৭৪,৪৫০ কোটি টাকা।
ঋতু তাওড়ে প্রথমবার ২০১২ সালে ১২৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কর্পোরেটর (কাউন্সিলর) নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে তিনি জেতেন ১২১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। সর্বশেষ নির্বাচনে ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করেন।