'কোথায় খুনটা হয়েছিল?' লোহাগড় ফোর্টে একটাই প্রশ্ন ট্যুরিস্টদের, 'সিয়া পয়েন্ট' দেখার হিড়িক

মুম্বই, পুনে, নাসিক-সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বহু পর্যটক স্বীকার করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের খবরই তাঁদের লোহাগড়ে আসতে উৎসাহিত করেছে। নাসিকের এক তরুণ পর্যটক জানান, তাঁদের মূল পরিকল্পনা ছিল অন্যত্র ট্রেকিং করার। কিন্তু কেতন হত্যা মামলার কথা জানার পর তাঁরা পরিকল্পনা বদলে লোহাগড়ে চলে আসেন।

Advertisement
'কোথায় খুনটা হয়েছিল?' লোহাগড় ফোর্টে একটাই প্রশ্ন ট্যুরিস্টদের, 'সিয়া পয়েন্ট' দেখার হিড়িকলোহাগড় দূর্গ।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • মহারাষ্ট্রের লোনাভালার কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গ এখন আর শুধু ইতিহাস বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার কারণেও মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে।
  • ২৬ বছরের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ার পর দুর্গে পর্যটকদের ভিড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের লোনাভালার কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গ এখন আর শুধু ইতিহাস বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার কারণেও মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে। ২৬ বছরের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ার পর দুর্গে পর্যটকদের ভিড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। অনেকেই বিশেষভাবে সেই পাহাড়ের খাদটি দেখতে আসছেন, যেখানে কেতনের মৃত্যু হয়েছিল। এমনকি স্থানীয়দের একাংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে ওই জায়গার নামও দিয়ে ফেলেছেন, ‘সিয়া পয়েন্ট’।

লোহাগড়-বিসাপুর ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি শচীন টেকওয়াডে জানান, বর্ষার শুরুতে কম বৃষ্টির কারণে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি বদলে গেছে। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

দুর্গের কর্মীরাও জানিয়েছেন, এখন অধিকাংশ পর্যটকই প্রথমে জানতে চান সেই নির্দিষ্ট জায়গাটি কোথায়, যেখান থেকে কেতন পড়ে যান। অনেকেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ কৌতূহলবশত পুরো ঘটনার খুঁটিনাটি জানতে চাইছেন।

মুম্বই, পুনে, নাসিক-সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বহু পর্যটক স্বীকার করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের খবরই তাঁদের লোহাগড়ে আসতে উৎসাহিত করেছে। নাসিকের এক তরুণ পর্যটক জানান, তাঁদের মূল পরিকল্পনা ছিল অন্যত্র ট্রেকিং করার। কিন্তু কেতন হত্যা মামলার কথা জানার পর তাঁরা পরিকল্পনা বদলে লোহাগড়ে চলে আসেন। মুম্বই থেকে আসা আরেক পর্যটকের কথায়, “ঘটনাটি এত আলোচিত হয়েছে যে, ঠিক কোথায় এটি ঘটেছিল, সেটা নিজের চোখে দেখতে ইচ্ছা হয়েছিল।”

তবে এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইতিহাসপ্রেমী ও দুর্গ সংরক্ষণে যুক্ত ব্যক্তিরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রায় দুই হাজার বছরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, মারাঠা সাম্রাজ্যের স্মৃতি এবং ইউনেস্কোর স্বীকৃতি, সবকিছুই এখন এই অপরাধের আলোচনার আড়ালে চলে যাচ্ছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৩৮৯ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লোহাগড় দুর্গ মহারাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। সাতবাহন যুগ থেকে শুরু করে চালুক্য, যাদব, বাহমনী, আদিলশাহী এবং পরে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের শাসনামলে এই দুর্গ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে এটি ইউনেস্কোর ‘মারাঠা মিলিটারি ল্যান্ডস্কেপস’-এর অন্তর্ভুক্ত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ট্রেকিং করতে গিয়ে কেতন আগরওয়াল ৩৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মারা যান। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ অভিযোগ করেছে, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর পরিচিত চেতন চৌধুরী পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। তবে মামলাটি এখনও বিচারাধীন এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া বাকি।


 

POST A COMMENT
Advertisement