এলপিজি সঙ্কটযুদ্ধ চলছে মধ্যপ্রাচ্যে। বন্ধ হরমুজ প্রণালী। আর এমন পরিস্থিতিতে ভারতে LPG সঙ্কট বেড়েছে। ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছনো যাবে কি না, তা নিয়ে চলছে আশঙ্কা। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমে পড়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। তাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই LPG উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তেল সংস্থাগুলিকে। পাশাপাশি তারা প্ল্যান বি-এর দিকে তাকানোর চেষ্টাও করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে যে, ভারত একাধিক দেশের সঙ্গে LPG এবং LNG নিয়ে কথা বলছে। সেই মতো আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা থেকে ভারতে আসতে শুরু করেছে গ্যাস। আর তাতেই সঙ্কট কেটে যাবে বলে দাবি করছেন তারা।
উৎপাদন বাড়িয়েছে ভারত
এই যুদ্ধ আমেরিকা, ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলছে। তার ফলেই সারা পৃথিবীতে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছ। শুধু তাই নয়, LPG গ্যাস তৈরিতেও একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে খবর।
আর এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের তরফ থেকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে LPG-এর বাণিজ্যিক ব্যবহার আপাতত কমিয়ে দেশের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছনোর বিষয়ে জোর দিচ্ছে মোদী।
বিসনেস টুডে-এর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে যে সারা ভারতে ১০ শতাংশ LPG উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম LPG উৎপাদন বাড়িয়েছে।
প্ল্যান বি কি কাজ করছে?
LPG সঙ্কট কাটাতে শুধু দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করেই বসে থাকছে না কেন্দ্র। বরং LPG এবং LNG-এর সমস্যা মেটাতে একাধিক দেশ থেকেও গ্যাস আনার চেষ্টা করছে ভারত। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নরওয়ে এবং অন্যান্য একাধিক দেশ থেকে গ্যাস বোঝাই কার্গো আসতে শুরু করেছে। যার ফলে বাড়ি বাড়ি গ্যাস পৌঁছনো সম্ভব হবে।
কোথা থেকে গ্যাস কেনে ভারত?
কাতার থেকে ৪২.২২ শতাংশ, আমেরিকা থেকে ১৮.৫ শতাংশ, ইউএই থেকে ১১.১১ শতাংশ, অ্যাঙ্গোলো ৭.০৭ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ অন্যান্য সোর্স থেকে LNG কেনে ভারত। আর LPG-এর ক্ষেত্রে ইউএই এবং কাতার থেকে মোট ৬২ শতাংশ কেনা হয়। এছাড়া সৌদি থেকে ১৮.৫ শতাংশ এবং কুয়েত থেকে ১৫.৬ শতাংশ কেনে ভারত। আর এই সব জায়গা থেকেই LPG এবং LNG আসছে না। যদিও সরকার দাবি করছে নতুন দেশগুলি থেকে গ্যাস আনার ফলে সমস্যা মিটে গিয়েছে।