ন্যাশনাল হেরাল্ড কেসে বড় স্বস্তি রাহুল, সনিয়ারন্যাশনাল হেরল্ড মামলায় আপাতত সাময়িক স্বস্তিতে কংগ্রেসের দুই শীর্ষ প্রধান সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী। আদালতে গৃহীত হল না ইডির চার্জশিট। মঙ্গলবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধী-সহ অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের চার্জশিট নিতে অস্বীকার করেছে। আদালতের এই পদক্ষেপকে রাহুল-সনিয়ার আইনি জয় হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সঠিক এফআইআর রেজিস্টার না হলে অর্থ পাচারের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট মামলা বৈধ বলে বিবেচিত হবে না। আদালত জানিয়েছে, PMLA এর বিধান অনুসারে, তদন্ত শুরু করার আগে ইডিকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত একটি FIR রেজিস্টার করতেই হবে।
উল্লেখ্য ইডি-র তরফে চার্জশিটে রাহুল-সনিয়া গান্ধী ছাড়াও সুমন দুবে, সাম পিত্রোদা, সুনীল ভাণ্ডারী এবং ইয়ং ইন্ডিয়ান ও ডোটেক্স মার্চেনডাইসের নামও রয়েছে। তবে আদালত সেই চার্জশিট গ্রহণ না করায়, ধোপে টিকল না মামলা। তবে আদালত জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে।
সূত্রের খবর, ইডি-র টিম বর্তমানে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের এই রায় পর্যালোচনা করছে। আদালতের এই রায়ের বিপরীতে ইডি আবেদন করতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।
আদালত কী জানাচ্ছে?
আদালত আরও উল্লেখ করে জানিয়েছে, অর্থ পাচারের তদন্তের ভিত্তি হিসেবে যে FIR দায়ের করার কথা ছিল, তা এখনও দায়ের করা হয়নি। CBI এখনও পর্যন্ত এই মামলায় FIR দায়ের করেনি। অন্যদিকে ইডি FIR ছাড়াই ECIR দায়ের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আদালত এই বিষয়টিকে আইনের ক্ষেত্রে অসঙ্গতিপূর্ণ বলেই মনে করেছে।
ন্যাশনাল হেরল্ড মামলা: আসলে কী?
ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা প্রাক-স্বাধীনতার সংবাদপত্র। এই সংবাদপত্রটি ১৯৩৮ সালে ইন্দিরা গান্ধীর বাবা এবং দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু শুরু করেছিলেন। দ্য ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকাটিকে অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (AJL) নামে একটি কোম্পানি প্রকাশ করেছিল। এই সংস্থাটি ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং নেহেরু ছাড়াও ৫ হাজার জন স্বাধীনতা সংগ্রামী এর শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। এই সংস্থাটি আরও দুটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করত। হিন্দিতে উর্দু কওমি আওয়াজ এবং হিন্দিতে নবজীবন। কোম্পানি কোনও এক ব্যক্তির নামে ছিল না।
অন্যদিকে, ইয়ং ইন্ডিয়া লিমিটেড (YIL) একটি কোম্পানি। এটি ২০১০ সালে শুরু হয়েছিল। রাহুল গান্ধী তখন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি এই কোম্পানির ডিরেক্টরও হয়েছিলেন। ৫ লাখ টাকা দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাহুল গান্ধীর কাছে এই কোম্পানির ৩৮ শতাংশ শেয়ার ছিল। তাঁর মা সোনিয়া গান্ধীর ৩৮ শতাংশ শেয়ার ছিল। বাকি ২৪ শতাংশ শেয়ার ছিল কংগ্রেস নেতা মোতিলাল ভোরা, অস্কার ফার্নান্ডেজ, সাংবাদিক সুমন দুবে এবং কংগ্রেস নেতা স্যাম পিত্রোদার কাছে। কংগ্রেস বলে যে এটা একটি অলাভজনক কোম্পানি এবং এর শেয়ারহোল্ডার এবং পরিচালকদের কোনও লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি।
২০১২ সালে বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী নিম্ন আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে ইয়াং ইন্ডিয়া লিমিটেড (YIL)-এর অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড অধিগ্রহণে জালিয়াতি এবং বিশ্বাসের লঙ্ঘন হয়েছে। এতে জড়িত ছিলেন কয়েকজন কংগ্রেস নেতা। স্বামীর অভিযোগ যে YIL অন্যায়ভাবে ন্যাশনাল হেরাল্ডের সম্পত্তি দখল করেছে। স্বামীর অভিযোগ, গান্ধী পরিবার কংগ্রেস পার্টির তহবিল ব্যবহার করে AJL অধিগ্রহণ করেছে। যদি স্বামীর অভিযোগ বিশ্বাস করা হয়, তবে এর উদ্দেশ্য ছিল অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেডের ২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ দখলের চেষ্টা করা। এরপরই শুরু হয় তদন্ত।