
স্পিকার ওম বিড়লার হাতে চিঠি তুলে দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরাপশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি আশ্চর্যজনক মোড় নিল রবিবার। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ পৃথক শিবির গড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি নামক অপরিচিত একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেলেন। পশ্চিমবঙ্গে হাওড়ার বাঁকড়ায় এই দলের হেড অফিস। জানা যাচ্ছে, এটি ত্রিপুরার রাজনৈতিক দল। ২০২৩ সালে কলমের নিব চিহ্নে ভোটে লড়েছিল।
দিল্লির অলিন্দে এখনও পর্যন্ত খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যে ১৯ জন দেখা করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে। তার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভুপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক হয়। স্পিকারের কাছে ওই সাংসদরা সকলের সই সম্বলিত চিঠি তুলে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, আগামী দিনে এই শিবির NDA-কে সমর্থন করবে। এই সাংসদদের যাতে লোকসভায় এনডিএ-র দিকে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়, তার জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে শুধুই তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন হিসেবে দেখলে হবে না। বরং জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে যেতে পারে। NCPI নামক এই নয়া শিবির বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দিলে সংখ্যার বিচারে ব্যাপক সুবিধা পাবে এনডিএ। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের ক্ষেত্রে।
বাদল অধিবেশন ও আটকে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল
২১ জুলাই সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এনডিএ জোটের লক্ষ্য হল কিছু সংবিধান সংশোধনী বিল আনা, যেগুলি পাস করাতে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন দরকার। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেছিল। এই বিলের লক্ষ্য ছিল মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা, যা আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিল। তবে লোকসভায় বিলটি বড় ধাক্কার মুখে পড়ে। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি, বিপক্ষে ২৩৮টি। প্রয়োজনীয় সমর্থন না মেলায় বিলটি পাস হয়নি।

এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয় যে, এনডিএ শিবির ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও বিধায়কদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ও ডিএমকের সম্পর্কে টানাপোড়েনের পর থেকেই গুঞ্জন ছড়ায় যে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক সমর্থনের জন্য এনডিএ ডিএমকে-র দিকেও হাত বাড়াতে পারে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসে দৃশ্যমান ভাঙন এবং ২০ জন সাংসদের প্রকাশ্যে বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সমর্থন ঘোষণার ফলে বিজেপি তথা এনডিএ সংসদের আগামী অধিবেশন শুরুর আগেই একটি বড় কৌশলগত সুবিধা পেতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কি বিজেপি-র হাত?
তৃণমূল কংগ্রেসে দ্রুত বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপি-র হাত রয়েছে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই জল্পনার অন্যতম কারণ বিজেপির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভুপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একাধিক বৈঠক। শুধু তাই নয়, ওই বৈঠকগুলিতে বিজেপি নেতা নিশিকান্ত দুবে, সিএ এম রমেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিও জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। ফলে অনেকেরই ধারণা, কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি এই রাজনৈতিক ভাঙনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। জল্পনায় আরও ঘি পড়ল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় সই করেছিলেন, তিনি শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
NCPI কী?
এই যাবতীয় রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থায় হঠাত্ করেই ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) নামক একটি দলের নাম উঠে এল। এই দলের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা। NCPI-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও আরএসএস-এর সক্রিয় কর্মী সুজিত দে-র বক্তব্য, 'ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের দল মাটিতে নেমে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াই করেছিল।' তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, গত বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁদের দল সক্রিয়ভাবে দলবদলু রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিল। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দল পরিবর্তন করে আসা নেতাদের প্রার্থী করার বিরোধিতা করেই তাঁরা ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন।