তাপপ্রবাহের অ্যালার্টতাপপ্রবাহ নিয়ে আগাম সতর্কতার নির্দেশ দিল ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন বা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে ভারতের ২১টি রাজ্য ও এনসিটি-দিল্লিকে তাপপ্রবাহের সময় ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবন রক্ষার জন্য আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের মতে, তাপপ্রবাহ চললে অনেকেই বিপদে পড়তে পারে। যেতে পারে প্রাণ। এই তালিকায় রয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি, রোদে কাজ করা শ্রমিক, বয়স্ক, শিশু, নবজাতক এবং গৃহহীনরা। তাই তারা যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেটা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যগুলি বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের SOP মেনে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমাতে ও মৃত্যুহার রোধে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে ভারতের ২১টি রাজ্য ও দিল্লিকে তাপপ্রবাহের সময় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নইলে মৃত্যু বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
কোন কোন রাজ্য রয়েছে এই তালিকায়?
এই রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে- অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, বিহার, ছত্তীসগড়, গুজরাত, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, সিকিম, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ।
কমিশন জানিয়েছে, আগের থেকে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠী, রোদে কাজ করা শ্রমিক এবং গৃহহীনরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ, তাদের কাছে পর্যাপ্ত আশ্রয় নেওয়ার জায়গা থাকে না। পাশাপাশি বয়স্ক, শিশু, নবজাতক ও সদ্যোজাত শিশুরা বিশেষভাবে তীব্র গরমের জন্য বিপদে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, তাপপ্রবাহের কারণে প্রাণহানী হতে পারে। এমনকী অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
তাই কমিশন এই রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব এবং কেন্দ্রশাসিত দিল্লির প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বলি, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে তাপপ্রবাহ বা লু-জনিত কারণে ৩,৭১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করেছে কমিশনও। রাজ্যগুলি যেন তাদের SOP বা National Disaster Management Authority-র নির্দেশিকা মেনে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমানোর জন্য কাজ করে, সেটাই চাইছে কমিশন।
কমিশন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলাস্তরে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটা জানতেও রিপোর্ট চেয়েছে। এখন দেখার রাজ্যগুলি ঠিক কী ব্যবস্থা নেয়।