নীতীশ কুমার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার। ২০ বছর সেই রাজ্য়ের প্রশাসনিক প্রধানের পদে ছিলেন তিনি। ফলে তাঁর পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হল বিহারের বর্ণময় রাজনীতিতে। এখন তাঁর জায়গায় কে বসেন, সেদিকেই সবার নজর।
রাজনৈতিক অবস্থান বারবার বদলের জন্য পরিচিত ৭৫ বছর বয়সী নীতীশ গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র শরিক হিসেবে ভোটে লড়েছিলেন। বিহার ভোটে এনডিএ জোটের জয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি। যদিও তার কারণ জানা যায়নি।
ইস্তফা দেওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে নীতীশ জানান, তাঁর সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজের সবস্তরের মানুষের জন্য কাজ করেছে। বিশেষভাবে নারী ও যুবকদের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। নতুন সরকারও দায়িত্ব এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি সমর্থনও দেবেন।
৪ বছরে ৪ বার শপথ
গত ১০ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছেন নীতীশ কুমার। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিরোধী INDIA জোট ছেড়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-তে যোগ দেন।
এর আগেও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। আবার ২০২২ সালে তিনি বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA ছেড়ে আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন। ফলে গত চার বছরে মোট চারবার শপথ নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। তিনবার মুখ্যমন্ত্রী এবং একবার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে।
১০ বার মুখ্যমন্ত্রী, ৬ বার ইস্তফা
নীতীশ কুমার প্রথমবার ২০০০ সালে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ইস্তফা দিতে হয়। পরে ২০০৫ সালে আবার ক্ষমতায় ফিরে তিনি এমনভাবে রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করেন যে, প্রায় দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতি তাঁর কেন্দ্রেই আবর্তিত হয়েছে।
এইভাবে ১০ বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এবং ৬ বার ইস্তফা দেওয়ার বিরল রেকর্ড তাঁর নামেই রয়েছে। এটি শুধু ক্ষমতায় থাকার গল্প নয়, বরং ইস্তফার পরও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ন্ত্রণে রাখার এক বিশেষ ধারা তুলে ধরে।
২০০৫ থেকে বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু নীতীশ
২০০৫ সালের পর থেকেই বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন নীতীশ কুমার। ২০১০ সালে তিনি তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০১৩ সালে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিতেন রাম মানঝিকে সরিয়ে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এরপর ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে আরজেডির সঙ্গে জোট বেঁধে পঞ্চমবার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ২০১৭ সালে ‘মহাগঠবন্ধন’ ভেঙে তিনি ইস্তফা দিলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এনডিএ-র সঙ্গে জোট বেঁধে ষষ্ঠবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরে আসেন।
২০২০ সালের নির্বাচনের পর তিনি সপ্তমবার শপথ নেন। ২০২২ সালে এনডিএ ছেড়ে বিরোধীদের সঙ্গে সরকার গঠন করে আবার ইস্তফা দিয়ে অষ্টমবার মুখ্যমন্ত্রী হন।
২০২৪ সালেও একই ধারা বজায় রেখে মহাগঠবন্ধন ছেড়ে আবার এনডিএ-তে ফিরে গিয়ে নবমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দশমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়েন নীতীশ।