নিশান্তকে উপমুখ্যমন্ত্রী (ডেপুটি সিএম) করার বিষয়ে নাকি 'সর্বসম্মত' সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। (File Photo/ITG)রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জনতা দল ইউনাইটেডে (JDU) যোগ দিলেন নীতীশ কুমার-এর ছেলে নিশান্ত কুমার। পটনার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করেন। নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফার পরে যে নতুন সরকার গঠিত হতে পারে, সেখানে নিশান্তকে উপমুখ্যমন্ত্রী (ডেপুটি সিএম) করার বিষয়ে নাকি 'সর্বসম্মত' সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
নিশান্তের রাজনৈতিক অভিষেক ঘিরে জেডিইউ কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। রবিবার সকালে পটনার প্রদেশ জেডিইউ কার্যালয়ে জমায়েত হন বিপুল সংখ্যক নেতা ও কর্মী। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেন নিশান্ত। স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন জেডিইউ-র জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ললন সিংহ এবং বিহারের মন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না নিশান্তের বাবা তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।
দলের সদস্যপদ গ্রহণ করার পর কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন নিশান্ত। তিনি বলেন, 'আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা আমার উপর যে ভরসা রেখেছেন, তার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব। গত ২০ বছরে আমার বাবা বিহার এবং দেশের জন্য যা করেছেন, তা নিয়ে আমি গর্বিত।'
নিশান্ত কুমার কে?
শান্ত স্বভাবের এবং শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব হিসেবেই চেনে রাজনৈতিক মহল। বাবার মতো তিনিও পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। রাঁচির বিরলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (BIT), মেসরা থেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক। দীর্ঘ দিন ধরেই রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর নাম ঘুরছিল। যদিও এত দিন সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হননি।
২০২৫ সালের জুনে জেডিইউ-র সাধারণ সম্পাদক পরম হংস কুমার নিশান্তকে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের এবং রাজ্যের স্বার্থে নিশান্তের সামনে এসে দায়িত্ব নেওয়া উচিত। পরম হংসের দাবি ছিল, নিশান্ত অত্যন্ত শান্ত ও দূরদর্শী ব্যক্তি। তাঁর মতে, 'নিশান্তজি অত্যন্ত বিনয়ী এবং তিনি একজন প্রভাবশালী যুব নেতা হয়ে উঠতে পারেন।'
এমএলসি নির্বাচনে লড়তে পারেন নিশান্ত
নিশান্তের রাজনীতিতে যোগদান ঘিরে বিহারের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। জেডিইউ বিধায়ক হরিনারায়ণ সিংহ সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, আগামী ১০ এপ্রিলের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন নিতীশ কুমার। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এপ্রিলে এমএলসি নির্বাচন-এর মাধ্যমে বিধান পরিষদের সদস্য হতে পারেন নিশান্ত কুমার।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নিতীশ কুমার। হরনৌত কেন্দ্রের জেডিইউ বিধায়ক হরিনারায়ণ সিংহের দাবি, আগামী মাসেই রাজ্য বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন নিশান্ত।