২০২৫-এর ফেব্রুয়ারির পর SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ হয়নি: EC সূত্র

SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ হয়নি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে। কমিশন সূত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ঠিক কী ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে?

Advertisement
২০২৫-এর ফেব্রুয়ারির পর SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ হয়নি: EC সূত্রনির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে কোনও মতবিরোধ নেই: দাবি
হাইলাইটস
  • SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ হয়নি
  • ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে
  • ঠিক কী ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে?

SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। সেই নিয়ে ফেরনতুন করে অবস্থান জানাল কমিশন। সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ৩ সদস্যের কমিশন কোনও সিদ্ধান্তে ভিন্নমত পোষণ করেনি এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।

সপ্তাহখানেক আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে SIR সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে ১৪ বার আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। ওই আপত্তিগুলির মধ্যে ছিল ভোটার তালিকার ডেটাবেস প্ল্যাটফর্ম ECINet-এর কেন্দ্রীয়করণ, Form 6-এ পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত, এছাড়াও আরও একাধিক বিষয়।

এর মধ্যেই SIR নিয়ে INDIA ব্লকের দলগুলি বৈঠকে বসে এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলে। কমিশনের সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, SIR ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি আইনসম্মত ও দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ সদস্যের কমিশনের নেওয়া সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত বলে দাবি করা হয়েছে।

SIR-এর মূল উদ্দেশ্য কী?
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, SIR-এর মূল লক্ষ্য হল ভোটার তালিকায় থাকা মৃত, একই ব্যক্তির একাধিক নাম, ভুয়ো এবং অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারদের শনাক্ত করা। একইসঙ্গে যোগ্য কোনও ভোটারের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেটিও নিশ্চিত করা এই প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।

Form 6 নিয়ে কী বলল কমিশন?
নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করা এবং ভোটার তালিকায় নাম সংযোজনের জন্য Form 6 ব্যবহার করা হয়। এই ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর কমিশনের সূত্র স্পষ্ট জানিয়েছে, Form 6-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।

SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান
SIR-এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের প্রসঙ্গে কমিশনের সূত্র সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলার কথাও উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, আদালত কখনও SIR প্রক্রিয়া স্থগিত করেনি। বরং ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা রেখে ভোটারদের ঘোষণাপত্র এবং ম্যাপিং প্রক্রিয়া সহ SIR এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

Advertisement

কমিশনের দাবি, SIR কোনও নতুন পদ্ধতি নয়, বরং বহু বছর ধরে চলে আসা একটি বিস্তৃত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের পর জন্ম নেওয়া ভোটারদের কাছ থেকেই নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাপিংয়ে ভুলও সফটওয়্যারের মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে, যাতে ভুয়ো বা একই ব্যক্তির একাধিক নাম ভোটার তালিকায় না থাকে।

প্রায় ২৫ হাজার ERO-AERO-র কেউ অভিযোগ করেননি, দাবি EC-র। ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বিকেন্দ্রীভূত বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই কাজ সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার করেন না। Electoral Registration Officer (ERO) এবং Assistant Electoral Registration Officer (AERO)-দের স্তরেই এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

কমিশনের সূত্রের দাবি, SIR প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২৫ হাজার ERO এবং AERO-র মধ্যে কেউ এই প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করেননি।

কমিশনের তরফে আরও বলা হয়েছে, SIR নিয়ে যে প্রশ্নগুলি উঠছে, তার অধিকাংশই ব্যক্তিগত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ভোটার যাচাইয়ের জন্য Booth Level Officers (BLO)-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোনও ভোটার বাড়িতে না থাকলে বা অন্যত্র চলে গেলে, BLO-দের অন্তত ৩ বার বাড়িতে গিয়ে যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে ব্যাখ্যা
গোয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রথমে বাদ পড়া ৯৭ জন ভোটারের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। সূত্রের দাবি, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ওই নামগুলি প্রথমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। এর মধ্যে ৮৮ জনের নাম পরে যুক্ত করা হয়েছে। আরও ৩ জনকে পর্তুগালের নাগরিক হিসেবে পাওয়া গিয়েছে এবং ৬ জন সেই সময়ে বিদেশে ছিলেন। বাকি ঘটনাগুলির যাচাই চলছে।

বেলা এস্টেটের ৭২৭ ভোটার নিয়ে কী বলল EC?
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বেলা এস্টেটে ৭২৭ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে নতুন ভোটারদের নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া এখনও চলছে। সূত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, BLO-রা বেলা এস্টেটে গিয়ে কাউকে পাননি। ফলে কীভাবে স্বাক্ষর নেওয়া হবে? সেই প্রশ্নও ওঠে। কমিশনের সূত্রের দাবি, যে কোনও ব্যক্তি SIR ফর্মে স্বাক্ষর করে তা BLO-র কাছে জমা দিয়ে থাকলে তাঁর নাম খসড়া ভোটার তালিকায় নিশ্চিত করা হবে।

১১ কোটি ভোটারের নাম ফেরানোর দাবি নিয়েও ব্যাখ্যা
ভোটার তালিকায় প্রায় ১১ কোটি ভোটারের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি প্রসঙ্গে কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, এর অর্থ হবে, যাচাই প্রক্রিয়ার সময় বাদ পড়া এমন নামগুলি পুনরায় যুক্ত করা, যেগুলির পুনরায় যাচাই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। অর্থাৎ, কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, SIR প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে যাদের পুনরায় যাচাই এখনও শেষ হয়নি, তাঁদের নাম ফের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিকেই এই প্রসঙ্গে বোঝানো হচ্ছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement