প্রতীকী ছবি ইচ্ছেমতো ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে সতর্কবার্তা কেন্দ্রের। শুধু তাই নয়, বড় পদক্ষেপও সরকারের। ফার্মাসিস্ট, ওষুধের দোকানদার এবং ডিস্ট্রিবিউটররা প্রেসক্রিপশন ছাড়া নির্দিষ্ট কতগুলি ওষুধ বিক্রি করতে পারবেন না। ২১ সেপ্টেম্বর এই নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যানডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন বা CDSCO।
বিশেষ করে NSAID গোত্রের ব্যথার ওষুধের অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার কিডনির ক্ষতি করতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে তৈরি হতে পারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। এই পরিস্থিতিতে ওষুধের দোকান, চিকিৎসক এবং হাসপাতালগুলিকে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
সরকারের নির্দেশ, অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক NSAID নিজের ইচ্ছেমতো খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনওভাবে উৎসাহ দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ শুধু দোকানে গিয়ে নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক বা নির্দিষ্ট ব্যথার ওষুধ কিনে খাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বেশিরভাগ NSAID Schedule H-এর আওতায় পড়ে। অন্যদিকে বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে Schedule H1। ড্রাগ রুলস ১৯৪৫ অনুযায়ী এই ওষুধগুলি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশনের নিয়ম রয়েছে। তবে সরকারের এই নির্দেশে নতুন করে কোনও ওষুধ নিষিদ্ধ করা হয়নি। নতুন কোনও প্রেসক্রিপশন ক্যাটাগরিও তৈরি করা হয়নি। মূল লক্ষ্য হল, আগে থেকেই থাকা নিয়মগুলি আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা।
NSAID নিয়ে বিশেষভাবে কিডনির ঝুঁকির কথা জানিয়েছে CDSCO। যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে অথবা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ব্যথার ওষুধ বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে নিজের ইচ্ছেমতো খাওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে খেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিকিৎসকদেরও NSAID প্রেসক্রাইব করার সময় রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্য কোনও রোগ রয়েছে কি না, তিনি অন্য কোনও ওষুধ খাচ্ছেন কি না এবং কিডনির সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না- এসব বিষয় বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা, শরীরে জল কমে যাওয়া, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা কিংবা অন্য কোনও ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে NSAID ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সবচেয়ে কম কার্যকর ডোজ এবং সবচেয়ে কম প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শুধু ব্যথার ওষুধ নয়, অ্যান্টিবায়োটিক নিয়েও কড়া সতর্কতা জারি করেছে সরকার। চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বেশিরভাগ সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। কারণ অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে জীবাণু ধীরে ধীরে ওই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে। একে বলা হয় 'Antimicrobial Resistance বা AMR'। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনের সময় অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে সংক্রমণের সম্ভাব্য কারণ, সংক্রমণ শরীরের কোথায় হয়েছে, কতটা গুরুতর এবং প্রয়োজন হলে পরীক্ষার রিপোর্ট বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। একসঙ্গে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, ভুল অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন, ভুল ডোজ এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দিন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো এড়াতে বলা হয়েছে। সরকারের আরও পরামর্শ, ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ বারবার ফিরে এলে নিজের মতো করে ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকেও ওষুধ ব্যবহারের উপর নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা, অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং রোগীদের ওষুধ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার মতো ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে।