নয়ডা হিংসা পাকিস্তান যোগ?Noida Violence Pakistan Connection: উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের আড়ালে কি তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের হাত? গৌতম বুদ্ধ নগরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড ও অশান্তির তদন্তে নেমে এবার চাঞ্চল্যকর ‘পাকিস্তান কানেকশন’ ফাঁস করল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সীমান্তের ওপার থেকে সোশ্যল মিডিয়ায় পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে উসকে দেওয়া হয়েছিল শ্রমিকদের। করাচি বা লাহোরে বসে ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে নয়ডার শিল্পাঞ্চলে আগুন জ্বালানোর ছক কষা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ এপ্রিল। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের একটি জমায়েত হঠাৎই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ব্যাপক পাথরবৃষ্টি, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কেঁপে ওঠে নয়ডা। অভিযোগ, ঘরে ফেরা সাধারণ শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষে এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করতে হয় পুলিশকে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও থমথমে ভাব কাটেনি।
সীমান্তের ওপার থেকে ‘ডিজিটাল বিষ’
কারা ছিল এই হিংসার নেপথ্যে? পুলিশি তদন্তে এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলের দুটি অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে, যেগুলি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। @Proudindiannavi: এই হ্যান্ডেলটি থেকে ১৩ এপ্রিল দাবি করা হয় যে, পুলিশের গুলিতে নাকি বহু শ্রমিক মারা গিয়েছেন। যা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। @Mir_Ilyas_INC: এই অ্যাকাউন্ট থেকেও ক্রমাগত গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরির চেষ্টা করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, গত তিন মাস ধরে এই চক্রটি সক্রিয়। কিউআর কোড এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করে শিল্পাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার ছক কষা হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই সেক্টর ২০ থানায় আইটি অ্যাক্টে এফআইআর (মামলা নম্বর ১২১২৬) দায়ের করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৬২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে ৯ জন সরাসরি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যুক্ত। ধৃতদের অনেকের বিরুদ্ধেই জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA) প্রয়োগ করা হতে পারে। পুলিশের সন্দেহ, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ‘আরবান নকশাল’ যোগসূত্র থাকাও অস্বাভাবিক নয়।
বিদেশের মাটি থেকে ভারতকে অস্থির করার এই নতুন কৌশলে চিন্তিত প্রশাসন। আপাতত সোশ্যল মিডিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এক্স (X) কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অভিযুক্ত ইউজারদের তথ্যও তলব করা হয়েছে। নয়ডার এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বিদেশের মাটি থেকে ছড়ানো ভুল খবর দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।