মিসাইল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়াNorth Korea Missile Launch: পশ্চিমী দেশগুলিকে বুড়ো আঙুল। ফের মিসাইল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। রবিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পূর্ব উপকূল থেকে পরপর দু’টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে খবর। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা জানিয়েছে, প্রথমটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও বিষয়টি কনফার্ম করেছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দুই কোরিয়ায়। মিসাইল ছোড়ার খবর পেয়েই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতরে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (NSC) বৈঠক ডাকা হয়। মিসাইল টেস্টিংয়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার লঙ্ঘন।
কোথা থেকে মিসাইল ছোড়া হল?
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ওয়নসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে মিসাইল ছোড়া হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ৩টে নাগাদ প্রথম মিসাইলটি ছোড়া হয়। পরে একই দিক বরাবর আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম NHK জানিয়েছে, মিসাইলটি জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোন এলাকার বাইরে গিয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত জাপানের মূল এলাকায় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এই নিয়ে এক সপ্তাহে দ্বিতীয় বার
মাত্র কয়েক দিন আগেই উত্তর কোরিয়া একাধিক কম রেঞ্জের ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল। ১২ সেপ্টেম্বরের সেই পরীক্ষার পর আবার রবিবার মিসাইল লঞ্চ করল পিয়ংইয়ং। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়াকে অবিলম্বে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। সিওলের দাবি, এই ধরনের ঘটনায় কোরিয়ার উপদ্বীপের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
আমেরিকা-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়াতেই কি চটেছে উত্তর কোরিয়া?
এর আগে আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের যৌথ মহড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিল উত্তর কোরিয়া। ২৯ অগাস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর গুয়ামের কাছে আমেরিকার নেতৃত্বে একটি নৌ মহড়া হয়েছিল। তাতে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও অংশ নেয়। উত্তর কোরিয়া সেই মহড়ার তীব্র সমালোচনা করে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জংও সম্প্রতি আমেরিকার নেতৃত্বে সামরিক মহড়াকে 'কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির মূল কারণ' বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অন্য দেশ যা-ই করুক, পরমাণু অস্ত্রের দিক থেকে শক্তিশালী হওয়ার নীতি থেকে উত্তর কোরিয়া কিছুতেই পিছিয়ে আসবে না।