একবারে নয়, দু’দফায় প্রসব! ৫ দিনের ব্যবধানে চার শিশুর জন্ম দিলেন আমিনা

উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার এক বিরল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে চারটি সন্তানের জন্ম দিলেন ৩১ বছর বয়সী এক মহিলা। চিকিৎসকদের মতে, এত জটিল পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে চার সন্তানের জন্ম অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

Advertisement
একবারে নয়, দু’দফায় প্রসব! ৫ দিনের ব্যবধানে চার শিশুর জন্ম দিলেন আমিনা
হাইলাইটস
  • উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার এক বিরল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ।
  • মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে চারটি সন্তানের জন্ম দিলেন ৩১ বছর বয়সী এক মহিলা।

উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার এক বিরল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে চারটি সন্তানের জন্ম দিলেন ৩১ বছর বয়সী এক মহিলা। চিকিৎসকদের মতে, এত জটিল পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে চার সন্তানের জন্ম অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

সম্ভলের বাসিন্দা আমিনা নামের ওই মহিলা মোরাদাবাদের তীর্থঙ্কর মহাবীর বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে মা ও চার নবজাতকই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থার শুরুতেই আল্ট্রাসাউন্ডে চারটি ভ্রূণের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তখন থেকেই এটিকে ‘হাই-রিস্ক প্রেগন্যান্সি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের তরফে পরিবারকে ‘ফিটাল রিডাকশন’-এর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যাতে অন্তত দু’টি শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করা যায়। তবে পরিবার চারটি ভ্রূণই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গর্ভাবস্থার পুরো সময়জুড়েই আমিনা উচ্চ রক্তচাপ ও যকৃতের সমস্যায় ভুগছিলেন। একাধিকবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর উপর নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮ মে প্রথমবার প্রসব বেদনা শুরু হয় আমিনার। ৯ মে জন্ম নেয় প্রথম পুত্রসন্তান। শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ৭১০ গ্রাম। এরপর চিকিৎসকেরা মায়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হন এবং বাকি সন্তানদের জন্ম কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়, কারণ তখনও গর্ভাবস্থার সময়কাল পূর্ণ হয়নি।

এরপর ১৪ মে ফের প্রসব বেদনা শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় আমিনাকে। সেদিনই আরও এক পুত্রসন্তান ও দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। চিকিৎসকদের দাবি, চারটি শিশুই আলাদা আলাদা থলিতে ছিল, যা এই ঘটনাকে আরও বিরল করে তুলেছে।

নবজাতকদের মধ্যে একজন সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। বাকি দু’জনকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা, নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারের সহযোগিতার ফলেই এই জটিল গর্ভাবস্থাকে সফলভাবে সামলানো সম্ভব হয়েছে।

Advertisement

শিশুদের বাবা তথা পেশায় মুদি দোকানদার মোহাম্মদ আলিম হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আমিনার বোন ইমরানা পারভীনও পুরো চিকিৎসা পর্বে হাসপাতালের সহায়তার প্রশংসা করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র একটি বিরল প্রসব নয়, বরং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, দক্ষ চিকিৎসক দল এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। চিকিৎসকদের কথায়, এত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় মা ও শিশু উভয়ের জীবনই বিপদের মুখে থাকে। সেই জায়গা থেকে চারটি শিশুর সফল ও স্বাভাবিক প্রসব নিঃসন্দেহে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

 

POST A COMMENT
Advertisement