শাহের ইস্তফা চাইছেন দিপকেনিট প্রশ্নফাঁসের পর দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে সাফল্য পেয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। তাই এবার আরও একধাপ এগিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা চাইছেন সিজেপি-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। বৃহস্পতিবার দিপকে অভিযোগ করেন, ২০ জুলাই 'সংসদ চলো' মিছিলে ছাত্রদের উপর বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন শাহ। আর এই ঘটনার জন্যই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এক মাসেরও বেশি সময় আন্দোলন করে সিজেপি। সেই আন্দোলন ইতিমধ্যেই তারা সাফল্য পেয়েছে। তারপর নিজের বাড়ি ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে ফিরে গিয়েছেন দিপকে। সেখান থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। দাবি করেন শাহের ইস্তফার।
এই সময়ই দেশের সাধারণ মানুষকেও প্রতিও গণতন্ত্র রক্ষার কাজে এগিয়ে আসতে বলেন দিপকে। তাঁর দাবি, গণতন্ত্র রক্ষা এখন আর শুধু বিরোধীদের দায়িত্ব নয়। দেশের মানুষকেও একজোট হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন...
এই সময়ই দেশের বিচারব্যবস্থার দিকে আঙুল তোলেন দিপকে। তিনি অভিযোগ করেন, 'বিচারব্যবস্থার উপরও প্রশ্নচিহ্ন উঠে গিয়েছে। আমরা দেখেছি, কীভাবে ইডি ও সিবিআইকে ব্যবহার করে শিবসেনা ও এনসিপির মতো দল ভাঙা হয়েছে। দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্ব ছিল গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখা, একনায়কতন্ত্রকে বাধা দেওয়া। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি।'
'প্রহ্লাদ যোশিও অদ্ভুত ব্যক্তি'
নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিকে কটাক্ষ করেন দিপকে। যোশিকে 'অদ্ভুত ব্যক্তি' বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'দেশের শিক্ষামন্ত্রী যদি ধর্ষকদের প্রশংসা করেন, তাহলে ধরে নিতে হবে যে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে আর একজন অদ্ভুত মানুষকে আনা হয়েছে। এতে দেশের মানুষের কাছে কী বার্তা যাচ্ছে?'
এই সময় রামদেবকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি দিপকে। বাবা রামদেবের জেন জি সম্পর্কিত মন্তব্য় নিয়েও এ দিন মুখ খোলেন দিপকে। তিনি বলেন, 'আমরা সংবিধান মেনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি.আর. আম্বেদকরের ছবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা যদি সংস্কৃতিকে অপমান করা হয়, তাহলে আমরা সেটাই করেছি। বাবা রামদেবের উচিত পতঞ্জলির দিকে নজর দেওয়া।'
'অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত'
এই সময়ই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিকেও সমর্থন করেন দীপকে।
তিনি বলেন, 'অমিত শাহের অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত। কেউ কেউ বলছেন, ককরোচ জনতা পার্টি বিদেশ থেকে অর্থ পাচ্ছে বা আন্দোলন বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। যদি সেটাই সত্যি হয়, তাহলে সেটা অমিত শাহের ব্যর্থতা। সিজেপি যদি বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়, তাহলে উনি কিসের চাণক্য? ২০ জুলাই ছাত্রদের উপর বলপ্রয়োগের নির্দেশ অমিত শাহই দিয়েছিলেন, অন্য কেউ নয়।'