অনুরাগ ঠাকুর, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা'এক দেশ এক নির্বাচন' নিয়ে আলোচনার জন্য গঠিত হল যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)। ওই কমিটিতে আছেন অনুরাগ ঠাকুর, সুপ্রিয়া সুলের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। মোট ৩১ সাংসদ রয়েছেন এই কমিটিতে। যার নেতৃত্বে বিজেপি সাংসদ পিপি চৌধুরী। এই কমিটিতে ২১ জন লোকসভার সাংসদ। বাকি ১০ জন রাজ্যসভার।
যৌথ সংসদীয় কমিটি কী করবে? 'এক দেশ এক নির্বাচন' বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে (JPC) পাঠিয়েছে সরকার। এই কমিটির কাজ, এনিয়ে আলোচনা করে সরকারকে প্রয়োজনীয় অদলবদলের সুপারিশ করা। প্রবীণ আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষের মতে, 'সবিস্তারে আলোচনা এবং ভারতের সাধারণ মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া জেপিসি-র দায়িত্ব।'
মঙ্গলবার লোকসভায় 'এক দেশ এক নির্বাচন' বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল। এই বিল অনুযায়ী, গোটা দেশে বিভিন্ন রাজ্যগুলিতে বিধানসভা ভোট এবং লোকসভা ভোট একইসঙ্গে হবে। এই বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীরা। ভোটের পক্ষে ভোট দেন ২৬৯ জন সাংসদ। বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১৯৮টি।
যৌথ সংসদীয় কমিটিতে কারা কারা আছেন,
১। পিপি চৌধুরী (বিজেপি)
২। সিএম রমেশ (বিজেপি)
৩। বাঁশুরি স্বরাজ (বিজেপি)
৫। অনুরাগ সিং ঠাকুর (বিজেপি)
৬। বিষ্ণু রাম (বিজেপি)
৭। ভারতীহরি মহতাব (বিজেপি)
৮। সম্বিত পাত্র (বিজেপি)
৯। অনিল বালুনি (বিজেপি)
১০। বিষ্ণু দত্ত শর্মা (বিজেপি)
১১। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরা (কংগ্রেস)
১২। মণীশ তিওয়ারি (কংগ্রেস)
১৩। সুখদেব ভগত (কংগ্রেস)
১৪। ধর্মেন্দ্র যাদব (সমাজবাদী পার্টি)
১৫। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ( তৃণমূল কংগ্রেস)
১৬। টিএম সেলভাগণপতি (ডিএমকে)
১৭। জিএম হরিশ বালযোগী (টিডিপি)
১৮। সুপ্রিয়া সুলে (এনসিপি-শারদ গোষ্ঠী)
১৯। শ্রীকান্ত একনাথ শিন্ডে (শিবসেনা-শিন্দে গোষ্ঠী)
২০। চন্দন চৌহান (আরএলডি)
২১। বালাশ্বরী বল্লভনেনী (আরএলডি)
কেন 'এক দেশ এক নির্বাচন' বিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে?
এই বিলটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং গণতন্ত্রের ধারণার সঙ্গে যুক্ত। তার জেরে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, লোকসভার পাশাপাশি রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচন হলে রাজ্যগুলির সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের পরিস্থিতি তৈরি হবে। এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। সরকারপক্ষের দাবি, স্বাধীনতার পর প্রথম ১৫ বছর দেশে একসঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভার
ভোট হত। এতে বারবার নির্বাচনের কারণে যে সময় ও অর্থ নষ্ট হয়, তা বাঁচবে।