এক দেশ, এক নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক।-ফাইল ছবি‘এক দেশ, এক ভোট’ নীতি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এই নীতির জন্য একটি বিল অনুমোদন করেছে। সূত্রের খবর, শীতকালীন অধিবেশনেই এই বিল সংসদে পেশ করা হতে পারে।
‘এক দেশ, এক নির্বাচন’: কেন প্রয়োজন?
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, ঘন ঘন নির্বাচন দেশের আর্থিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। এতে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের সংস্থানগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান এই প্রসঙ্গে বলেন, “একযোগে নির্বাচন হলে উন্নয়নের গতি দ্রুত হবে এবং খরচও কমবে।”
বিল পেশের প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরামর্শ
সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, বিল পেশের আগে একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) গঠন করা হবে। এই কমিটি সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং তাদের মতামত সংগ্রহ করবে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি আগে থেকেই ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে।
বিরোধী দলগুলির আপত্তি
বিরোধী দল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি (এএপি) এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রস্তাব কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করবে। অন্যদিকে, এনডিএ-র মিত্র দলগুলো, যেমন নীতীশ কুমারের জেডি(ইউ) এবং চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি, এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে।
‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ
সরকারের মতে, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতি ঘন ঘন নির্বাচনের ফলে সৃষ্ট খরচ এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা কমাতে সহায়ক হবে। তবে এটি কার্যকর করতে বিভিন্ন আইনি ও সাংবিধানিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সংসদের সমর্থনের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের সম্মতির ওপর এই নীতির সফলতা নির্ভর করছে।
বিরোধীদের মতে, বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন হওয়ার যে পদ্ধতি বর্তমানে প্রচলিত, সেটি দেশের বৈচিত্র্য এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একযোগে নির্বাচন তাদের মতে এই কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে।