ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনছে বিরোধীরাবাজেট অধিবেশনে উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ। বিরোধী পক্ষ এবং সরকার পক্ষ একে অপরকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। লোকসভায় হাঙ্গামা হওয়ার জন্য রাহুল গান্ধী বলতে পারেননি। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ছাড়াই ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়। আর এমন পরিস্থিতিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াল বিরোধীরা। তারা একত্রে মিলে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
বিরোধীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, সব বিরোধী দলই স্পিকার ওম বিড়লার উপর অনাস্থার আনার বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন। এই মর্মে লোকসভার সেক্রেটরি জেনারেলের কাছে নোটিশও দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।
বিরোধীদের তরফ থেকে জানা যাচ্ছে, এখনও অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে কিছু সই বাকি রয়েছে। তারপর জমা দেওয়া হবে প্রস্তাব। আর যদি এই অনাস্থা প্রস্তাব সত্যিই পেশ হয়ে যায়, তাহলে ওম বিড়লার কাজের উপর বিরাট বড় প্রশ্ন উঠে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন স্পিকারকে নিয়ে এত রাগ বিরোধীদের?
অধিবেশন শুরুর সময় থেকেই স্পিকারের কাজের উপর ক্ষোভ ছিল বিরোধীদের। স্পিকার ওম বিড়লা রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ প্রস্তাবে উপর বলতে দেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল পেশ করেন ধন্যবাদ প্রস্তাব। এটিকে সমর্থন করেন বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য। তিনি কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। ওদিকে বিপক্ষের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীর প্রথমে বক্তব্য রাখার কথা ছিল।
এই সময় রাহুল গান্ধীর সময় এলে তিনি ডোকালাম এবং চিন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী চিনের আগ্রাসন প্রসঙ্গে জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারভানের বইয়ের উল্লেখ করেন। এরপরই শুরু হয়ে যায় হাঙ্গামা। স্পিকার বারবার তাঁকে বলার সময় আটকে দেন।
আর তাতেই চটে যায় বিরোধীরা। তারা লোকসভার বিপক্ষ দলনেতার সঙ্গে এই আচরণের তীব্র বিরোধীতা করেন। আর এই ঘটনার জন্যই লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চাইছেন বিরোধীরা।
আজ ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক হয়
ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক হয় আজ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের মাল্লিকার্জুন খাগড়ে, রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে তৃণমূলের শতাব্দী রায়। আর তারপরই ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে খবর।
প্রস্তাব কি পাশ হবে?
মাথায় রাখতে হবে যে লোকসভায় এখন বিরোধীদের যত সংখ্যক সাংসদ রয়েছে, তাতে বড়জোর এই প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে। কিন্তু সেটি পাশ হওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই এই প্রস্তাবের ভবিষ্যত নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।