প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন সলমননিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। আর এবার যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের হয়ে মুখ খুললেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সলমন খান।
তবে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কোনও সংগঠনের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি তিনি। কিন্তু উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে 'শান্তিপূর্ণভাবে' আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রশংসা করেছেন।
তাঁর দাবি, এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি সলমন ২০ জুলাই 'চলো সংসদ' মিছিল চলাকালীন পড়ুয়াদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বুধবার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা দীর্ঘ পোস্টে সলমন আহত পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন। সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে 'অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা' বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে একজোট হওয়া পড়ুয়াদের প্রশংসা করেন। তাঁদের পাশে থাকার জন্য অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান।
সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, 'এই আন্দোলন, এই প্রতিবাদ—এভাবেই এগোনো উচিত।' এছাড়া পড়ুয়াদের 'সাহসী' বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'শিক্ষার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার একদিন ভারতকে গর্বিত করবে।'
যদিও সলমন মনে করেন, বর্তমানে এই বিষয়টা পড়ুয়া এবং শিক্ষাব্যবস্থার মাঝের বিষয়। রাজনৈতিক দলগুলিকে এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করা উচিত।
নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি দাবি করেন, একদিন ভারত বিশ্বমানের শিক্ষাকেন্দ্র পরিণত হবে। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পড়াশোনা করতে আসবেন।
যদিও শুধু সলমন নয়, এর আগে সোনাক্ষী সিনহা, অদিতি রাও হায়দারি, দুলকার সলমন, পূজা ভাট, পরিচালক ইমতিয়াজ আলি এবং বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ-সহ একাধিক চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যে এই আন্দোলনের সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
এক নজরে আন্দোলন
নিট ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর সিজেপির নেতৃত্বে শুরু হয় এই আন্দোলন। বারবার পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিক্ষোভরতদের মূল দাবি, ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেই সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
এসবের মাঝেই ২০ জুলাই দিল্লিতে 'চলো সংসদ' মিছিলের আয়োজন হয়। সেদিন হাজার হাজার পড়ুয়া যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়ার পর সংসদের উদ্দেশে মিছিল শুরু করে। সেই সময় পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এরপরই পড়ুয়াদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।