আর মাত্র ৬ সাংসদ দরকার, বাদল অধিবেশনেই সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ?

বিরোধীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে গত এপ্রিলেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে দাঁড়িয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহমত হলে প্রয়োজনে এক ঘণ্টার জন্য সংসদ মুলতুবি রেখে তা করা যেতে পারে।

Advertisement
আর মাত্র ৬ সাংসদ দরকার, বাদল অধিবেশনেই সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ?বাদল অধিবেশন বিল পাশ করাতে সরকারের কৌশল কী?
হাইলাইটস
  • শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন।
  • এই অধিবেশনে কি পাশ হবে সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল?

বাদল অধিবেশনের আগে শুরু হয়েছে রাজনীতির দাবা খেলা। লোকসভায় সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলকে সমর্থন করার ইঙ্গিত দিয়েছে শরদ পাওয়ারের এনসিপি। তেমনটা ঘটলে শরদের ৮ সাংসদের সমর্থন পেয়ে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে মোদী সরকার। সেই সঙ্গে তৃণমূল থেকে 'বিদ্রোহী' সাংসদরা তো আছেনই।  

গত এপ্রিলে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সংসদে সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে পারেনি মোদী সরকার। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন! ঘটনা হল, ইন্ডি জোটের ঐক্যের কারণে গত এপ্রিল মাসে সংসদে বাধা পেয়েছিল শাসক দল। কিন্তু বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই কি সেই ঐক্যে ফাটল ধরতে শুরু করেছে? তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের পর সবথেকে বড় প্রশ্ন ছিল, শরদ পাওয়ার এবং এম কে স্ট্যালিনের দল কি রাজনৈতিক অবস্থান বদল করতে চলেছে? ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনের ঠিক আগে পাওয়ারকে নিয়ে প্রথম ইঙ্গিত মিলল। তাঁর কন্যা তথা এনসিপি শরদ গোষ্ঠীর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে আভাস দিয়েছেন, ডিলিমিটেশন বিলকে সমর্থন করতে পারে তাঁর দল। সুপ্রিয়ার বক্তব্য,'ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত নতুন বিল পেশ হওয়ার পরই এনসিপি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের সমস্ত রাজ্যের লোকসভা আসন সংখ্যা যদি ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়, সেক্ষেত্রে সব দলের সম্মতি পাওয়া সম্ভব'। 

গত ১৬ এপ্রিল লোকসভায় পেশ হওয়া এই বিলের মূল লক্ষ্য ছিল ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে করা হবে ৮৫০। সেই সঙ্গে নারী শক্তি বন্দন আইনের অধীনে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ। সেবার বিলের পক্ষে পড়েছিল ২৯৮টি ভোট। এবং বিপক্ষে ২৩০। ৫২৮ জন সাংসদের মধ্যে বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫২টি ভোট। বিরোধী ঐক্যের কারণে তা মেলেনি। বর্তমানে ৫৪০ সদস্যের লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৩৬০টি ভোট। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের সৌজন্যে বাদল অধিবেশনের আগেই সেই লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এনডিএ।

Advertisement

অঙ্কটা ঠিক কেমন?

বড় প্রশ্ন ছিল, ২৯৮ জনের সঙ্গে অতিরিক্ত ৬২ সাংসদের সমর্থন কীভাবে জোগাড় করবে কেন্দ্র? এখন সমীকরণ স্পষ্ট। এনডিএ-কে ২৯৮ জন সাংসদকে ধরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে যোগ হবে তৃণমূল কংগ্রেস বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী, নতুন দল এনসিপিআইয়ের ২০ সাংসদ, শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠী থেকে শিন্ডে গোষ্ঠীতে আসা ৬ সাংসদ এবং এনসিপি শরদ গোষ্ঠীর ৮ সাংসদ। সমর্থন ৩৩২। এর সঙ্গে ডিএমকের ২২ জন সাংসদ যোগ দিলে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ৩৩২ + ২২ = ৩৫৪।

উপরোক্ত সমীকরণ থেকে স্পষ্ট, ৩৬০-এর জাদুসংখ্যা ছোঁয়ার জন্য প্রয়োজন পড়বে আর মাত্র ৬ সাংসদ। ভোটাভুটির সময় ছোট দলগুলি অনুপস্থিত থাকলে প্রয়োজনীয় অঙ্ক কমে যাবে। তখন অনায়াসেই কার্যসিদ্ধি হবে মোদী সরকারের।
 

POST A COMMENT
Advertisement