পেট্রোলের দামই২০ পেট্রোল নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে এসবের মধ্য়েই নিজেদের সপক্ষে সওয়াল করল তারা। মোদী সরকার দাবি করেছে, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। তবে ই২০ পেট্রোলের কারণে ভারতের সাধারণ মানুষের উপর তেমন একটা চাপ পড়েনি। তারা কম দামে কিনতে পেরেছে তেল।
সরকারের দাবি করেছে, যদি পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো না হতো, তাহলে যুদ্ধের সময় দিল্লিতে পেট্রোলের দাম অনেকটাই বাড়ত। সেটা পৌঁছে যেতে পারত লিটার পিছু প্রায় ১২৫ টাকা।
নিজেদের দাবির সপক্ষে যুক্তিও দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিস্তারিত বিবৃতিতে প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরান যখন যুদ্ধ চলছে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপিছু ১৩৫ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় টাকায় প্রায় ১৩ হাজার টাকায় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
এরপরই পেট্রোলের দাম নিয়ে বিরাট বড় দাবি করে কেন্দ্র। তারা জানায়, যখন অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপিছু প্রায় ১৩৫ ডলারে পৌঁছেছিল, তখন ইথানল ছাড়া পেট্রোল বিক্রি করলে তার দাম দিল্লিতে লিটারপিছু প্রায় ১২৫ টাকা হতে পারত। কিন্তু পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর ফলে সেই সময় মাত্র প্রতি লিটারে মাত্র ৯৪.৭৭ টাকায় পাওয়া গিয়েছে।
সরকারের দাবি, 'প্রতি লিটার পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও মানুষের উপর তার সেভাবে প্রভাব পড়েনি।' কেন্দ্রের মতে, এভাবেই যুদ্ধের সময় প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হয়েছে সাধারণ মানুষের।
মাথায় রাখতে হবে, কেন্দ্রের ই২০ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে রয়েছে। এই পেট্রোলে ৮০ শতাংশ পেট্রোলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হয়। আর তাতেই গাড়ি খারাপ হচ্ছে ও কমছে মাইলেজ বলে দাবি করছেন অনেক। তবে এত অভিযোগ মানতে চায়নি সরকার। বরং তারা বারবারই নিজেদের সপক্ষেই সওয়াল করেছে।
এই প্রসঙ্গে সরকারের বক্তব্য, ই২০ ব্যবহারে কিছুটা মাইলেজ কমতে পারে। কিন্তু তার বিনিময়ে যে সুবিধাগুলি পাওয়া যায়, তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার উপর ভারতের নির্ভরতা কমেছে বলে মনে করছে সরকার। কিন্তু তারপরও ক্ষোভ কমছে না। এখন দেখার সরকার ঠিক কীভাবে এই ক্ষোভ কমায়।