'সোনা কিনবেন না', প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের পরই রুপো কেনার হিড়িক, সোনার দাম পড়ল ধড়াম করে

সোমবার বাজার খোলার সাথে সাথেই বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ গ্রাহকদের মেজাজে বদল দেখা গেল। একদিকে যখন সোনার শোরুমগুলিতে ভিড় কম ছিল, তখন অন্যদিকে কমোডিটি মার্কেটে রুপোর প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। সোমবার সকালে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ২,২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।

Advertisement
'সোনা কিনবেন না', প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের পরই রুপো কেনার হিড়িক, সোনার দাম পড়ল ধড়াম করেSilver Price Hike: বাজারে রুপো কেনার হিড়িক

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর অস্থির তেলের বাজার, এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ দেশের অর্থনীতি। এমন আবহে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার বাঁচাতে দেশবাসীকে সোনা কেনায় রাশ টানার অনুরোধ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর আর্জি, আপাতত কয়েক দিনের জন্য সোনা কেনা স্থগিত রাখুন সাধারণ মানুষ। শুধু সোনা নয়, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এবং বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতেও লাগাম টানার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই শেয়ার বাজারে ধস নামল নামী গয়না সংস্থাগুলির শেয়ারে। টাইটান থেকে সেনকো গোল্ড। এক ধাক্কায় দর পড়ল ৬ থেকে ৯ শতাংশ।

রুপোর বাজারে চমক
সোমবার বাজার খোলার সাথে সাথেই বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ গ্রাহকদের মেজাজে বদল দেখা গেল। একদিকে যখন সোনার শোরুমগুলিতে ভিড় কম ছিল, তখন অন্যদিকে কমোডিটি মার্কেটে রুপোর প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। সোমবার সকালে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ২,২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। লেনদেনের এক পর্যায়ে রুপোর দাম প্রতি কেজি ২,৬৪,৯২২ টাকায় পৌঁছে যায়। যেখানে সোনার দাম একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

কেন এই কড়া বার্তা?
ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। এর ফলে রাজকোষ থেকে প্রচুর ডলার বেরিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা ও রুপো আমদানিকারক দেশ। ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম রেকর্ড তলানিতে ঠেকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাই অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমিয়ে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, যাতায়াত কমিয়ে যতটা সম্ভব বাড়িতে থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করুন। তেলের খরচ বাঁচাতে ও স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে দেশীয় পর্যটন ও দেশি পণ্যে জোর দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

রুপোর বাজারে অস্থিরতা ও শুল্ক আতঙ্ক
সম্প্রতি রুপোর বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কয়েক মাস আগে রুপোর দাম কেজি প্রতি ২.৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যদিও পরে তাতে বড়সড় পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় যে, সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হতে পারে। ২০১২-১৩ সালের স্মৃতি উসকে বাজার যখন চড়ছিল, ঠিক তখনই সরকারি সূত্রে অভয় দিয়ে জানানো হয়, এখনই শুল্ক বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, ভারতের বিয়ে ও উৎসবের সংস্কৃতিতে সোনা অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আবেদন বা দামের তোয়াক্কা করে না। তবে সরকারের এই বার্তার মূল লক্ষ্য যে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার দিনে ডলারের বহির্গমন আটকানো, তা স্পষ্ট।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement