নরেন্দ্র মোদীদেশের পড়ুয়াদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে ফের ইনস্টাগ্রামকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার একটি ইনস্টা ভিডিওতে তিনি সংসদে পাস হওয়া অ্যান্টি-পেপার লিক বিলকে স্বাগত জানান। একে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি পেপার ফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন।
লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেন মোদী। সেখানে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দশক ধরে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্য সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যার মোকাবিলা করে আসছে। এই ধরনের ঘটনা লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এই সময়ই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার যা যা পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আমরা একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছি। পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার হোক, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ হোক কিংবা রাজ্যগুলির পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া— সব ক্ষেত্রেই আমরা এগিয়ে চলেছি।'
এরপরই কড়া আইনের সপক্ষে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই ক্ষেত্রেই শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার।
এই সময়ই তিনি জোর দিয়ে জানান, পেপার লিক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'পেপার মাফিয়া এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত চক্র, যারা দেশের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।'
'এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক'
এই বিলের প্রসঙ্গ তুলে মোদী দাবি করেন, সংসদের দুই কক্ষেই টানা দু'দিন ধরে এই বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারপরই তা অনুমোদন পেয়েছে।
তাঁর কথায়, 'দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই কাজ এখানেই শেষ হয়নি, ভবিষ্যতেও চলবে। আমরা এই ধরনের পরিস্থিতিকে দীর্ঘদিন চলতে দেব না।'
প্রসঙ্গত, নিট প্রশ্নফাঁসের পর সংসদে অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অসাধু উপায়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থাৎ পড়ুয়াদের স্বার্থ রক্ষায় তারা আরও একধাপ এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ রাজ্যসভায় বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'র একাধিক দলের ওয়াকআউটের মধ্যেই পাস হয়। এর আগে বুধবার লোকসভায় বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল।
বিল অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অসাধু উপায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
অন্যদিকে, সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ড। কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।