নরেন্দ্র মোদী সিন্ধু জলচুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুক্রবার ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের পাশাপাশি নেহরু সরকারকেও একহাত নিলেন। দিল্লির লালকেল্লা থেকে এদিন নরেন্দ্র মোদী ফের একবার বলেন, 'রক্ত আর জল কখনওই একসঙ্গে বইতে পারে না।'
এরপরই নেহরু সরকারের নাম না করেই তোপ দেগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের মানুষ খুব ভাল ভাবে বুঝে গিয়েছেন কতটা একতরফা এবং অন্যায় ছিল এই সিন্ধু জলচুক্তি। ভারতের উৎস নদীগুলির জল শত্রু দেশে ফসল ফলাচ্ছিল। আর সেখানে দেশের জমি এবং কৃষকরা জলের জন্য তৃষ্ণার্ত হচ্ছিল। এই সমঝোতা দেশের কৃষকদের ক্ষতি করেছে। গত ৭ দশক ধরে এই সমঝোতা ক্ষতি করেছে। এবার এই জলের অধিকার কেবলমাত্র কৃষকদেরই থাকবে। কৃষকদের জনহিতে কখনও কোনও সমঝোতা মেনে নেবে না ভারত।'
পহেলগাঁও হামলার পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছিল ভারত। তার আর যে কোনও নড়চড় হচ্ছে না, তা আবারও বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদ আর আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। এই সূত্রেই ‘জল-রক্ত’ প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খান ও প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মধ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু এবং তার দুই উপনদ, বিতস্তা (ঝিলম) ও চন্দ্রভাগার (চেনাব) জলে পাকিস্তানের অধিকার ও কর্তৃত্ব থাকবে। আর ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে তিন উপনদী - বিপাশা (বিয়াস), শতদ্রু (সাটলেজ) এবং ইরাবতী (রাভি)-এর জলে। বিপাশা, শতুদ্র ও ইরাবতীর গড় বার্ষিক জলপ্রবাহ ৩৩ মিলিয়ন একর ফিট (MAF), যা ভারতকে বরাদ্দ করা হয়। অন্যদিকে, পশ্চিমের সিন্ধু, ঝিলাম এবং চেনাব–এর জল বার্ষিক প্রায় ১৩৫ MAF পাকিস্তানকে বরাদ্ধ করা হয়। ভারতে অবস্থিত সিন্ধু নদের দিয়ে বাহিত মোট জলের ৩০ শতাংশ ভারত, ৭০ শতাংশ পাকিস্তান পায়। পহেলগাঁওতে হামলার পরই চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত।