মার্কো রুবিও-প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীআমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ভারত সফরে এসেছেন। শনিবার দুপুরে দিল্লিতে এসে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশ নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং নতুন প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রুবিও। এই সফরটি কোয়াড বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠক চলাকালীন অনুষ্ঠিত হলেও, এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এটিই ছিল কোনও মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর প্রথম উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক। মনে করা হচ্ছে, বিদেশমন্ত্রী হওয়ার পর মার্কো রুবিওর এটিই প্রথম ভারত সফর।
মার্কো রুবিও ভারতের তিনটি প্রধান শহর—কলকাতা, জয়পুর ও আগ্রা—সফর করবেন, যা ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন দিকে মোড় দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার কলকাতায় আসেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ১৪ বছর পর কোনও মার্কিন বিদেশসচিব পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে পা রাখলেন।
আজই রুবিও দিল্লিতেও যাবেন। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রসঙ্গত, চারদিনের জনন্য ভারত সফরে এসেছেন রুবিও। ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিনি এ দেশে থাকবেন। এই সময় নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। আসলে এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা নিয়ে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী কী বলেছেন?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন বিদেশসচিবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, "বিশ্বের মঙ্গলের জন্য ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করে যাবে।"
বৈঠকে কী হল?
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং বাণিজ্য অংশীদারিত্বকে পুনরুজ্জীবিত করতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। এছাড়াও, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতা প্রসারে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রবিবার দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আরেকটি পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। কোয়াড বৈঠক এবং এতে ভারতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত-মার্কিন বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনা
মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, ভারতের জ্বালানি চাহিদার বৈচিত্র্যায়নে আমেরিকান জ্বালানি পণ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
প্রধানমন্ত্রী মোদীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে একটি নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফরটি করা হচ্ছে।
বৈঠকে আর কারা উপস্থিত ছিলেন?
ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বৈঠকে যোগ দেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও।