প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাদল অধিবেশনের শুরুতে উদ্বোধনী ভাষণ দিতে গিয়েও রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যুব সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গা করতে গিয়ে তাঁর মুখে এল লোকসভার বিরোধী দলনেতার 'বয়স'। নাম না করেও কীভাবে রাহুলকে নিশানা করলেন মোদী?
সোমবার নিজের বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্ষা হোক বা বাদল অধিবেশন, দুটোই সক্রিয় হলে দেশের কল্যাণ হয়, জনজাতির কল্যাণ হয়। আমার প্রার্থনা এটাই, বর্ষাও যেন সক্রিয় থাকে আর বাদল অধিবেশনও যেন সক্রিয় হয়ে ওঠে।' এরপরই তিনি শুরু করেন, গত এক মাসে দেশের তরুণ সমাজ কী কী নজির গড়েছে, সেই নজিরের তালিকা ব্যাখ্যা করতে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, 'গত পরশু ভারতের একটি স্টার্টআপ বড় সাফল্য লাভ করেছে। বিশ্বের খুব কম দেশ আছে যেখানে এভাবে বেসরকারি সংস্থা মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে। এই স্কাইরুট স্টার্টআপ, যেখানে বেশিরভাগ যুবক কাজ করছেন, শুনেছি তাঁদের গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর।' এরপরই রাহুলের নাম না করে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে মোদী বলেন, '২৮ বছরের যুবকরা মহাকাশে ভারতের ঝান্ডা পুঁতেছে। আমি কোনও ৫৬ বছরের যুবকের কথা বলছি না। এই কাজ ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বিশ্বে ভারতের প্রোফাইল আরও বেশি স্বীকৃতি পেয়েছে।'
মোদীর কথায়, 'আমাদের দেশের যুবকদের ক্ষমতা এবং আকাঙ্খা মহাকাশের মতো উঁচু। ভারতের যুব সম্প্রদায় সাহস দেখাচ্ছে এবং সফলও হচ্ছে।' এরপরই একে একে প্রধানমন্ত্রী রাজস্থানের তেল সংশোধনাগার উদ্বোধন, তৃতীয় সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট তৈরি, গ্রিন হাইড্রোজেন ট্রেন লঞ্চের উদাহরণগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'বিশ্বের খুব কম দেশই রয়েছে যেখানে এরকম হাইড্রোজেন ট্রেনের সুবিধা আছে। ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেন সবচেয়ে শক্তিশালী ইঞ্জিন দিয়ে চলবে এবং এটিই বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা গ্রিন হাইড্রোজেন ট্রেন।'
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন বাদল অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণ দিচ্ছেন, তখন ককরোচ জনতা পার্টি এবং অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে সংসদ অভিযানে নেমেছে প্রচুর সংখ্যক যুবক-যুবতী। তাঁদের দাবি, NEET কেলেঙ্কারি ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে ভারত যে শক্তি সঙ্কটে ভুগছে তা একপ্রকার মেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'শক্তির জন্য অন্যের উপর নির্ভর করতে হয় ভারতকে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে আমাদের সঙ্কটের সময় চলছে। অনেক বাধা আসছে। তা সত্ত্বেও ভারত ৭.৭ শতাংশ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি পেয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং সংসদের উদ্যম সেই গতি আরও বাড়াতে পারে। ফলে সংসদে দল নির্বিশেষে যে সকল অনুভবী সাংসদ রয়েছেন, তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ। নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'সংসদ সঠিক ভাবে চলতে দেওয়া জরুরি। মিলেমিশে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংকল্প নেওয়া এই মুহূর্তে বড্ড প্রয়োজনীয়। রাষ্ট্রভক্তি নিয়ে বেঁচে থাকা স্বর যেন সংসদে সঠিক স্থান পায়। সে কারণে আমি আশা করি এবং আমার বিশ্বাস যেখানে তথ্য আছে, যেখানে তর্ক হয়, সেখানে তুফানের জন্য কোনও জায়গা নেই। তর্ক মজবুত থাকলে শান্ত চিত্তেই নিজের তথ্য পেশ করা যায়।' অর্থাৎ ঠারেঠোরে তিনি বিরোধীদের হট্টগোল মুক্ত সংসদ চালানোর বার্তা দিলেন।