নরেন্দ্র মোদীডিলিমিটেশন বিল নিয়ে লোকসভায় দাঁড়িয়ে গ্যারান্টি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার নিজের ভাষণে তিনি বলেন, 'ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া পক্ষপাতদুষ্ট হবে না। কারও প্রতি কোনও অন্যায় হবে না এই প্রক্রিয়ায়। আপনারা যদি আমার গ্যারান্টি চান তো আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। যদি বলেন, প্রতিশ্রুতি দিতে, আমি আশ্বাস দিচ্ছি।'
কী এই ডিলিমিটেশন বিল?
মহিলা সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের পাশাপাশি লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিলও আনা হয়েছে সংসদে। এই বিলেই ২০২৭-এর জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করে ২০১১-র জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের ব্যবস্থা করেছে মোদী সরকার। জনগণনার রিপোর্ট প্রকাশের আগেই লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণও চালু করতে চাইছে কেন্দ্র।
বিরোধীরা কেন আপত্তি জানাচ্ছে?
বিরোধীদের দাবি, মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু মোদী সরকার মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য যে ভাবে নিজের ইচ্ছামতো লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাইছে, তাতে আপত্তি রয়েছে। কারণ, এর ফলে বিজেপির গড় উত্তর ভারতের রাজ্যগুলি থেকে লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে দক্ষিণ বা পূর্ব ভারতের থেকে আরও বেড়ে যাবে। জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি পৃথক বিষয়কে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, DMK সহ INDIA জোটের প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও বিরোধীদের আশঙ্কা, আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন কমিশনের মাথায় নিজের বাছাই করা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে বসিয়ে নিজের পছন্দ মতো লোকসভা, বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা নির্ধারণ করবে BJP। সংখ্যালঘু ভোট যাতে নির্দিষ্ট কিছু আসন বাদে বাকি কোথাও নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে না পারে, সেই ভাবে সীমানা নির্ধারণ হবে।
মোদী কী গ্যারান্টি দিলেন?
এদিন লোকসভার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। কোনও রাজ্যের সঙ্গে অবিচার হবে না। পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ, কোনও রাজ্যের সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব করা হবে না।'