প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং তার জন্য ভারতের উপর পড়া প্রভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিলেন। এই সংঘাতের মধ্যে ভারতীয়দের যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলি জানালেন। উল্লেখ করলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে রসদ সরবরাহ বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কী কী তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উঠে এল মোদীর ভাষণে?
উদ্বেগের বিষয়
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন এই যুদ্ধ ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, 'ভারত তেল ও গ্যাসের চাহিদার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। হরমুজ প্রণালী আমাদের জন্য শুধু সমুদ্রপথ নয়, এগুলো আমাদের লাইফলাইন।'
প্রত্যেক ভারতীয়ের নিরাপত্তা
সংঘাতে জড়িত ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির সঙ্গে ভারতের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। মোদী আরও বলেন, 'এই অঞ্চলটি বিশ্বের বাকি অংশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথও বটে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় ১ কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন। এঁরা আমাদেরই লোক। তাঁদের নিরাপত্তা আমাদের দায়িত্ব। এছাড়াও উপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।' ফলে ভারতের উদ্বেগ অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি।
ভারত ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিতে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা জরুরি হেল্পলাইন এবং আউটরিচ রুম স্থাপন করা হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নিরাপদে স্বদেশে ফিরেছেন। শুধু ইরান থেকেই প্রায় এক হাজার ভারতীয় ফিরেছেন। যার মধ্যে ৭০০ জনেরও বেশি মেডিক্যাল ছাত্র।
CBSE-র বড় সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, গাল্ফ দেশগুলিতে অধ্যয়নরত শিশুদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে CBSE সেখানকার স্কুলগুলিতে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করেছে।
হরমুজ ও তেল সঙ্কট
প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন, ভারতে অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, সার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একট বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। যুদ্ধের পর থেকে এই পথে পণ্য পরিবহণ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে সরকার নিশ্চিত করেছে, পেট্রোল, ডিজেল এবং গ্যাসের সরবরাহ যেন উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রভাবিত না হয়।
কোভিড পরিস্থিতির মতো ঐক্যবদ্ধ লড়াই
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, 'এই যুদ্ধ বিশ্বে যে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থাকবে। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা যেমন একসঙ্গে কোভিড-১৯ সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছিলাম, তেমনই এখন সঙ্কটকেও ঐক্যবদ্ধ ভাবে মোকাবিলা করতে হবে।'
জ্বালানি সঙ্গট মেটাতে ভারতের প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলার জন্য ভারত গত ১১ বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১১ বছর আগে দশের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৩ গিগাওয়াট। আজ তা বেড়ে ১৪০ গিগাওয়াট হয়েছে। যা ৪৬ গুণ বেশি। পাশাপাশি আগামী ৫ বছরে দেড় হাজার মেগাওয়াট নতুন জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যোগ করবে।'
পরমাণু শক্তির দিকেও পদক্ষেপ
নরেন্দ্র মোদী ব্যাখ্যা, পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে শক্তির বাহ্যিক উৎসের উপর নির্ভরতা হ্রাস পায়।
সংলাপ ও কূটনীতি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'ভারতের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা হল, সব পক্ষ যাতে যত দ্রুত সম্ভব একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোয়, তা নিশ্চিত করা।'
জাতীয় নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, এই ধরনের সঙ্কটে কিছু লোক পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই সমস্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সতর্ক করা হচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। উপকূলীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এভং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।