
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা করলেন, তা নিয়ে কৌতুহল রয়েছে সকলেরই। কোভিড অতিমারি পর্বের মতো সকলকে একজোট হয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তারপর থেকেই লকডাউন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যার বৈঠকেও ফের একবার মোদী স্মরণ করান অতিমারি পর্বের কথা। জানান, আবারও সকলকে 'টিম ইন্ডিয়া'-র মানসিকতা নিয়ে চলতে হবে। তবে কি দেশে ফের লকডাউনের ন্যায় বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতিকে 'অনিশ্চিত' বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দেন, ভারতের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এবং নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করার উপর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর এই প্রখম রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মহামারীর সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি বলেন, 'সেই একই সহযোগিতার মনোভাব বর্তমান পরিস্থিতিতেও বজায় রাখা দরকার।'
গ্যাসের অভাব ও তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত নিয়ে 'এনার্জি লকডাউন' সংক্রান্ত গুজবকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়েছেন, দেশজুড়ে কোনও লকডাউন হবে না। তিনি আশ্বাস দেন, পেট্রোল, ডিজেল ও LPG পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'জনগণের আস্থা বজায় রাখতে পরিষ্কার ও সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত জরুরি।' তিনি রাজ্যগুলিকে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। অর্থাৎ স্পষ্ট জানিয়ে দেন কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি ভুয়ো খবর ও গুজব রোধে সতর্ক থাকার কথাও বলেন।
সীমান্ত ও উপকূলীয় রাজ্যগুলিকে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ চলাচল, সামুদ্রিক কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে। এছাড়া অনলাই প্রতারণা ও ভুয়ো এজেন্টদের বিরুদ্ধেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
কৃষিক্ষেত্রে আগাম পরিকল্পনার উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সার সংরক্ষণ ও বিতরণে কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সে বিষয়ে রাজ্যগুলিকে প্রস্তুত থাকতে হবে।'
এছাড়া রাজ্য ও জেলা স্তপে কন্ট্রোল রুম চালু করা, পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয়দের পরিবারের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং হেল্পলাইন চালুর কথাও বলা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সৌরশক্তি ও বায়োফুয়েলের মতো বিকল্প শক্তির প্রসার এবং দেশে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।