Bankipur Job: ১০ হাজার বেকারকে চাকরি দেবেন প্রশান্ত কিশোর, চেয়ে পাঠালেন CV

Prashant Kishor Job Promise: 'CV পাঠান', ভোটে জেতার কয়েকদিন পরেই ১০ হাজার যুবকের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রশান্ত কিশোর। ঠিক কী বলেছেন তিনি? জানুন।

Advertisement
১০ হাজার বেকারকে চাকরি দেবেন প্রশান্ত কিশোর, চেয়ে পাঠালেন CVশিক্ষিত বেকারদের CV চাইলেন প্রশান্ত কিশোর।
হাইলাইটস
  • ভোটে জিতেই চাকরির প্রতিশ্রুতি।
  • লক্ষ্য এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান।
  • শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের CV বা বায়োডেটা জমা দেওয়ার আর্জি জানালেন পিকে।

ভোটে জিতেই চাকরির প্রতিশ্রুতি। পটনার বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির দীর্ঘ দিনের দুর্গের দখল নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। এ বার তাঁর লক্ষ্য এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে বাঁকিপুরের অন্তত ১০ হাজার পরিবারের ছেলেমেয়েকে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার টার্গেট নিয়েছেন। সেই উদ্দেশ্যে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের CV বা বায়োডেটা জমা দেওয়ার আর্জি জানালেন পিকে। ভোটে জয়ের পর মঙ্গলবার এই প্রথম বাঁকিপুরে যান প্রশান্ত। ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে এলাকায় ঘোরেন। সেখানেই কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান জন সুরাজ পার্টির নেতা।

প্রশান্তের কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্থা এবং শিল্পমহলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। সেই যোগাযোগ কাজে লাগিয়েই বাঁকিপুরের যোগ্য যুবক-যুবতীদের বেসরকারি সংস্থায় চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি তিনি দিচ্ছেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন।

বাঁকিপুরের বেকারদের CV চাইলেন প্রশান্ত কিশোর
শিক্ষিত কিন্তু এখনও চাকরি পাননি, এমন যুবক-যুবতীদের পরিবারের কাছে CV এবং বায়োডেটা তৈরি করে তাঁর অফিসে জমা দেওয়ার আবেদন করেছেন প্রশান্ত। তাঁর লক্ষ্য, আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার পরিবারের সন্তানকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া।

তবে এই চাকরি সব ক্ষেত্রেই বিহারে হবে, এমন নিশ্চয়তা দেননি তিনি। প্রশান্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অনেক যুবককে কাজের জন্য বিহারের বাইরে যেতে হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে যে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, সেগুলি কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে।

অর্থাৎ আপাতত লক্ষ্য বেসরকারি চাকরি। সরকারি চাকরির নিয়োগ তাঁর হাতে নেই।  

‘আমি কোথাও যাচ্ছি না’, বার্তা ভোটারদের
নির্বাচনে জয়ের পর কয়েক দিন তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তারও জবাব দেন প্রশান্ত। তিনি বলেন, তিনি কোথাও চলে যাননি। বরং এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতেই তিনি রয়েছেন।

বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গে ভাঙন
বাঁকিপুরে প্রশান্ত কিশোরের জয় রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ৩ অগাস্ট উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৯,৩২৪ ভোটে হারান।

Advertisement

প্রশান্ত পেয়েছেন ৬৪,১৫১ ভোট। বিজেপি প্রার্থী নীরজের ঝুলিতে যায় ৪৪,৮২৭ ভোট। আরজেডির রেখা গুপ্তা পান ১৪,২৭৩ ভোট। ফলে প্রায় তিন দশক ধরে বাঁকিপুরে বিজেপির যে রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল, তা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

ভোটগণনার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন প্রশান্ত। মোট ৩২ দফায় ভোটগণনা হওয়ার কথা থাকলেও ১৫তম দফার পর থেকেই তাঁর জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

‘দু’তিন মাসের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যাবে’
ভোটে জয়ের পরেই বাঁকিপুরের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রশান্ত। তাঁর দাবি ছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই এলাকার মানুষ পরিবর্তনের কিছু ছবি দেখতে পাবেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছিলেন, বিধায়ক নির্বাচিত হলেই রাতারাতি বাঁকিপুরকে বেঙ্গালুরুতে পরিণত করা সম্ভব নয়। উন্নয়ন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তাই ধাপে ধাপে এলাকার সমস্যা সমাধানের দিকে এগোতে চান তিনি।

চাকরির পাশাপাশি শিক্ষা, মাসে ১,১০০ টাকা পেনশন এবং রেশন; এই চারটি বিষয়কে বাঁকিপুরের জন্য অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন পিকে।

বাঁকিপুরে আপাতত বেসরকারি চাকরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন প্রশান্ত। তবে ভবিষ্যতে জন সুরাজ পার্টি যদি বিহারে ক্ষমতায় আসে, তা হলে ছবিটা আরও বড় পরিসরে বদলাবেন বলে দাবি করেছেন। 

POST A COMMENT
Advertisement