
ভোটকুশলী হিসেবে চূড়ান্ত সাফল্য পেলেও রাজনীতির ময়দানে তেমন দাগ কাটতে পারছিলেন না। কিন্তু BJP-র শক্ত গড় 'অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ'-এর মধ্যে একটিতে আঁচড় কেটে অধরা জয় ছিনিয়ে নেওয়ার দোরগোড়ায় প্রশান্ত কিশোর। BJP-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া বিহারের বাঁকিপুর আসনে বিপুল ব্যবাধানে জয়ের পথে পিকে। কোন অঙ্কে উপনির্বাচনে গেরুয়া ঝড় আটকে দিলেন তিনি?
জনসূরয পার্টি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে ভোটের ময়দানে এসেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। মোদী-নীতীশ জুটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভোটারদের মনজয় করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে এবার উপনির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর নিজেই দাঁড়ান ভোটে। আর প্রথমবার ভোটে লড়েই চমকে দিলেন পিকে।
লাগোয়া বাঁকিপুর বিধানসভাটি BJP-র দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। ২০১০ সাল থেকে পরপর ৪ বার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন নিতিন নবীন। ২০২৫ সালে ৬২ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। সে সময়ও লড়েছিল পিকে-র দল। কিন্তু কোনও ছাপই ফেলতে পারেনি। এরপর নিতিনকে রাজ্যসভায় পাঠায় BJP। একইসঙ্গে তাঁকে করা হয় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি।
বারবার পিকে-কে বলতে শোনা গিয়েছিল, নিজে ভোটের লড়াইয়ে সরাসরি নামবেন না। কিন্তু উপনির্বাচনে তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলের একাংশ বেশ অবাকই হয়েছিল। নিশ্চিত জেতা আসনে কেন BJP-কে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন, তা ভাবিয়েছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও। কিন্তু প্রাক্তন ভোটকুশলী অন্য অঙ্ক কষেছিলেন। সোমবার গণনা যত এগিয়েছে ততই তাঁর হিসেবে মিলেছে।
বাঁকিপুর এই প্রথম হাতছাড়া হতে চলেছে BJP-র। কারণ ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত এটি ছিল পটনা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। তখন বিধায়ক হিসেবে জিততেন নিতিন নবীনের বাবা। সেই লিগ্যাসি বজায় রেখেছেন তিনিও। তবে এবার তা ছিনিয়ে নিলেন পিকে।
কোন কোন অঙ্কে বাজিমাত পিকে-র?
বাঁকিপুরে প্রথমে অভিষেক কুমারকে প্রার্থী করেছিল BJP। তাঁকে টিকিট দেওয়া নিয়ে দলের একাংশের মধ্যেই অসন্তোষ ছিল। পরিবারবাদের রাজনীতির অভিযোগ এনে সরব হন বিহার BJP-র নেতৃত্বের একাংশ। তারপর প্রার্থী বদল করে BJP দাঁড় করায় নীরজ কুমার সিনহাকে।
এদিকে, ভোটগণনা শুরুর ঠিক আগেই পাটনা পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর মারাত্মক অভিযোগ তুলেছিলেন পিকে। তিনি দাবি করেন, তাঁর দলের কর্মীদের অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
তবে ভোটের ফলাফলের ব্যাপারে প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী জনসূরয প্রধান দাবি করেছিলেন, এই উপনির্বাচনে BJP এমন শোচনীয়ভাবে হারবে যে তারা এই অহংকার ভুলে যেতে বাধ্য হবে। উল্টোদিকে BJP দাবি করত, বাঁকিপুরে বিড়াল বা কুকুর দাঁড়ালেও নির্বাচনে জিতে যাবে। কিন্তু প্রাক্তন ভোটকুশলী বদলে দিলেন সমস্ত হিসেব-নিকেশ। এই জয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে তৃণমূল স্তরের জনসংযোগ এবং জাতি-ধর্মের চেনা সমীকরণ ভাঙার রাজনীতি। পাশাপাশি RJD এবং BJP-র চেনা দ্বিমুখী লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে বাঁকিপুরের শহুরে মধ্যবিত্ত ভোটাররা এবার বিকল্প কাউকে বেছে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। এই ফলাফলের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।